স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কোনো দিন স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা বা স্বৈরশাসকের উৎপত্তি না হয়, সেজন্য প্রাতিষ্ঠানিক চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নিশ্চিত করে ঐকমত্য ও সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। তিনি এ কথা শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকার শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর মনসুন থিয়েটরে আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ সেমিনার সিরিজের প্রথম পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন।

সেমিনারের বিবরণ

‘স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক আলোচনাসভার সভাপতিত্ব করেন জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান আলোচনায় অংশ নেন। এ তথ্য ঢাকা টাইমস, আজকের পত্রিকা ও সারাবাংলা—এই তিনটি আউটলেটের প্রতিবেদনে পাওয়া যায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মূল মন্তব্য

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার স্থায়ী আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে গণতন্ত্র পাহারা দেওয়ার জন্য কার্যকর ‘ওয়াচডগ’ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় সুনির্দিষ্ট বিধান থাকার পরও ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল, যা দেশের সাংবিধানিক সংকট ও স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করেছিল। পরবর্তীতে ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা বাকশাল-পরবর্তী বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস ও ফ্যাসিবাদী শক্তি উত্থানের মূল কারণ বলে তিনি চিহ্নিত করেছেন। এই প্রক্রিয়াই ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি করেছিল, যেখানে ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পতন ঘটিয়েছিল।

মন্ত্রী আরও বলেন, পরবর্তী রাজনৈতিক ধারাকে এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে জাতীয় অভিপ্রায় (People's Will) প্রতিফলিত হয়। বিচারকদের কেবল স্বাধীনতাই যথেষ্ট নয়, আইনের মাধ্যমে তাঁদের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে হবে যেন কোনো প্রতিষ্ঠান অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার অধিকারী হয়ে স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠতে না পারে। উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি ও গণভোট সংক্রান্ত প্রস্তাবনার বিষয়ে বিরোধী দলসহ সকল পক্ষের সাথে টেবিল-আলোচনা ও রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, সরকার কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা বিভাজন চায় না; জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণের পারস্পরিক ঐক্য ও রাজনৈতিক সমঝোতা অপরিহার্য।