জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) শাহবাগে চার দাবির সঙ্গে গণবিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বলেন, হাজারো মানুষের রক্তদানের মাধ্যমে এক স্বৈরাচারকে বিদায় করা হয়েছে, কিন্তু এখন দেশে নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখা যাচ্ছে।

মার্চে এনসিপি নেতারা ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে জনগণের সঙ্গে কথা বলেছেন, যেখানে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস ও রাহাজানি ইত্যাদি সমস্যাগুলো উত্থাপিত হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম বর্তমান সরকারের নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থতা তুলে ধরেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের উপর দায়িত্ব না পালনের অভিযোগ করেন, যিনি সংবিধান সংশোধনের কাজে ব্যস্ত। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

তিনি একতরফা গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানান, যা জুলাই সনদ ও গণভোটের প্রতিশ্রুতি ছিল।

নাহিদ ইসলাম বিএনপির জুলাই সনদ, ৩১‑দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের সমালোচনা করেন এবং বলেন, বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা দুর্নীতি, লুটপাট ও চাঁদাবাজি।

তিনি ভারতীয় ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, পাহাড়ে অশান্তি, এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের নিপীড়ন ঘটছে বলে জানান। তিনি আরও বলেন, ভারত বাংলাদেশকে করিডর দিতে চাচ্ছে এবং গঙ্গা চুক্তি ডিসেম্বর পর্যন্ত ন্যায্যভাবে পুনরায় আলোচনার প্রয়োজন।

মার্কেটিংয়ের অংশ হিসেবে নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আসিফ মাহমুদকে নির্বাচন করবে, যাদের বিজয়ে শহরের সমস্যাগুলো সমাধান হবে।

নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, যদি দাবিগুলো পূরণ না হয় তবে এনসিপি সারা দেশে মিছিল চালিয়ে যাবে এবং প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানকে ঘেরাও করে দাবি আদায় করবে।