আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বৃহস্পতিবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় রায় ঘোষণা করেছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড এবং কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী ও পৌর সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানকে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে। চारों আসামি পলাতক রয়েছেন।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেছে, মামলার পাঁচটি অভিযোগ সব প্রমাণিত হয়েছে। এক নম্বর অভিযোগে হানিফকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে গুলি চালিয়ে ছয়জনের হত্যার দোষী পাওয়ায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুই ও তিন নম্বর অভিযোগে অমানবিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের দোষে হানিফকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
চার ও পাঁচ নম্বর অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও সহায়তা এবং যৌথ পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক সংগঠনের অভিযোগে চার আসামিকেই যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ে দণ্ডিত চारों আসামির স্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করে বিক্রি আয় জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণে ব্যয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের আটটি মামলার রায় এ পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে ৭২ জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ ২৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ১৯ জন পলাতক এবং ৪ জন কারাগারে আছেন।
রায় ঘোষণার পর আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন রায়কে অপ্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম রায়কে সময়োপযোগী বলে স্বাগত জানিয়েছেন। প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেছেন, রায়ে আওয়ামী লীগকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।






