সমকালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভুটানের গাসা জেলার শিনতাফু হ্রদ থেকে হিমবাহ গঠিত হ্রদের পানি অপ্রত্যাশিতভাবে বেরিয়ে এসে মো ছু নদীর প্রবাহে প্রবেশ করেছে। এফএমের সিনিয়র জয়েন্ট কমিশনারের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৭৪ লাখ ঘনমিটার পানি নদীতে নেমে এসেছে এবং ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে পুনা‑১ বাঁধ এলাকায় পৌঁছাতে পারে।

এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সঙ্কোশ নদীর নিম্ন অববাহিকার সব পর্যবেক্ষণকেন্দ্রকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে এবং পানির উচ্চতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের (সিডব্লিউসি) বারোবিশা, সঙ্কোশ এলআরপি, গোলকগঞ্জ ও বালাডোবা পর্যবেক্ষণকেন্দ্রকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

অন্যান্য মিডিয়ার প্রতিবেদন

আজকের পত্রিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে শিনতাফু হ্রদটি ভুটানের সম্ভাব্য বিপজ্জনক ১৭টি হিমবাহ হ্রদের একটি এবং গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হ্রদ ভেঙে গাসা ছাচু এলাকায় সম্পূর্ণভাবে পানির ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সময়ে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও, গাসা হট স্প্রিংসের সব কাঠামো পানিতে ডুবে যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভুটান সরকার পশ্চিমবঙ্গ ও আসামকে সতর্ক করেছে; ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোর মধ্যে আসামের ধুবড়ি, এবং পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি অন্তর্ভুক্ত।

আজকের পত্রিকা আরও জানিয়েছে যে সঙ্কোশ নদী ভুটানের মো ছু ও ফো ছু নদীর মিলিত প্রবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে আসামে প্রবেশ করে ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিশে, যা পরে বাংলাদেশে যমুনা নামে প্রবাহিত হয়। ফলে উজানের বন্যা পরিস্থিতি বাংলাদেশের নদ-নদীর ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে, যদিও প্রভাবের মাত্রা পানির পরিমাণ ও প্রবাহের গতি নির্ভর করবে।

সমকাল ও আজকের পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা এবং নিম্ন অববাহিকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকা জরুরি।