একাত্তর টিভি অনুসারে, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে ভারতের ওড়িশা রাজ্যের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকার আটটি ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় (গজপতি, গঞ্জাম, রায়গাড়া, কোরা�পুট, নবরঙ্গপুর, মালকানগিরি, কালাহান্দি ও নুয়াপাড়া) প্রায় ৪৮,০০০ মানুষকে নিরাপদ শরণস্থলে সরিয়ে নিয়েছে। তাদের জন্য ১৩৫টি স্থায়ী সাইক্লোন শেল্টার এবং প্রায় ১,৬০০টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
অর্ণবের গতি সম্পর্কে একাত্তর টিভি জানায়, সাইক্লোনটি পশ্চিম‑উত্তর‑পশ্চিম দিকে ঘণ্টায় প্রায় ২০ কিলোমিটার বেগে অগ্রসর হয়ে বুধবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করবে। ইয়ানামের নিকটে পৌঁছানোর পর এটি ‘অত্যন্ত প্রবল ঘূর্ণিঝড়’ রূপ নিতে পারে, যার সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ১২৫‑১৩৫ কিলোমিটার এবং দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার গতি ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে একই ঘূর্ণিঝড়কে ‘অর্ণব’ নামে উল্লেখ করে, বলা হয়েছে যে এটি পশ্চিম‑মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করে এবং ঘণ্টায় ১৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত বেগে এগোচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতি দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার রূপে ১৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, যা একাত্তর টিভির তথ্যের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
দুটি সূত্রের মধ্যে গতি ও বাতাসের সর্বোচ্চ গতি সম্পর্কে পার্থক্য রয়েছে; একাত্তর টিভি ২০ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতি ও ১২৫‑১৩৫ কিলোমিটার/ঘণ্টা সর্বোচ্চ বায়ু গতি উল্লেখ করেছে, যেখানে ইত্তেফাক ১৭০ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতি ও একই মানের সর্বোচ্চ বায়ু গতি উল্লেখ করেছে।
অর্ণবের তীব্রতা মোকাবিলায় ওড়িশা সরকার ১৯ কোটি টাকা দুর্যোগ মোকাবিলা তহবিল থেকে বরাদ্দ করেছে এবং ২৪৪টি ফায়ার সার্ভিস টিম, ৬০টি ওড়িশা ডিসাস্টার র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স এবং ৯টি জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর টিমকে আধুনিক সরঞ্জামসহ প্রস্তুত রেখেছে। গাছপালা সরিয়ে যোগাযোগ রক্ষা, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকায় বিশেষ দল মোতায়েন এবং প্রায় ৩,০০০ গর্ভবতী নারীর নিরাপদ স্থানান্তরও করা হয়েছে। রাজ্য সরকার জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রশাসনের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।






