ভোতেকোশি ও ভোতেনদী নদীর ভয়াবহ বন্যার ফলে ত্রিশুলি ও চিলিম জলবিদ্যুৎকেন্দ্র দুটো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আজকের পত্রিকা অনুসারে, নেপাল ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর (গত শুক্রবার) সন্ধ্যায় ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে আবার ৪০ মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে পাঠাতে শুরু করেছে। একই ঘটনা সম্পর্কে ইত্তেফাকও ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় রপ্তানি পুনরায় শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছে, তবে ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা ২৪ অক্টোবর রাত ৮টায় ৩৮ মেগা ওয়াট সরবরাহ শুরু হওয়ার তথ্য দেয়। এই তারিখ ও পরিমাণের পার্থক্য উভয় মাধ্যমের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রভাবিত ও নতুন কেন্দ্রগুলো

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ত্রিশুলি ও চিলিম কেন্দ্রের পাশাপাশি দেবীঘাট কেন্দ্রও রপ্তানির মূল উৎস ছিল। ক্ষতি সত্ত্বেও, নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (NEA) নতুনভাবে সোলু খোলা এবং কাবেলি বি‑ওয়ান জলবিদ্যুৎকেন্দ্রকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন দিয়েছে। হরিয়ানা রাজ্যে বিদ্যুৎ পাঠানোর জন্য লোয়ার মোদি খোলা কেন্দ্রটি নির্বাচিত হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো পূর্বের ত্রিশুলি, চিলিম ও দেবীঘাট কেন্দ্রের স্থান গ্রহণ করেছে।

NEA-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ উল্লেখ করেন, বন্যার পরেও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা নেপালের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবসা বিস্তারের সম্ভাবনা রয়েছে।

দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও মৌসুমী সরবরাহ

২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (NEA) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BDB) পাঁচ বছরের মৌসুমী সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত নেপাল বাংলাদেশে ৪০ মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে।

ইন্ডিয়ান এনার্জি এক্সচেঞ্জে বিক্রির পরিসংখ্যান

নেপাল সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ২০২৬ সময়কালে ইন্ডিয়ান এনার্জি এক্সচেঞ্জ (IEX) এর ‘ডে‑আহেড’ ও ‘রিয়েল‑টাইম’ বাজারে মোট ৬৩৩.৯৮৬ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রি করে ৫.৯২৫ বিলিয়ন রুপি আয় করেছে। একই সময়ের পূর্ববর্তী বছরের আয় ৪.৯৬৩ বিলিয়ন রুপি ছিল, ফলে এই বছরের আয় প্রায় ৯৬২ মিলিয়ন রুপি বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, চলতি বছরের আগস্টের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত অর্জিত আয় ৫.৯২৫ বিলিয়ন রুপি থেকে অতিরিক্ত ৮৩২.৫ মিলিয়ন রুপি বেড়েছে।

মধ্যমেয়াদী চুক্তির অধীনে, জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত নেপাল হরিয়ানা ও বিহার রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, এবং ২০২৬‑২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মোট ১৬.১৫১৩ বিলিয়ন রুপি বিদ্যুৎ রপ্তানি করে। পরিচালনা পরিচালক উল্লেখ করেন, যদিও কিছু কেন্দ্র বন্ধ ছিল, তবু বিক্রির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার দুই-তৃতীয়াংশ দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে এবং বাকি অংশ IEX-এ প্রতিযোগিতামূলক দরদামের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে।