সমকাল অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে হুতি গোষ্ঠীর আক্রমণ বাড়ার পর মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল‑সিসি পার্লামেন্টের স্পিকার হিশাম বাদাওয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ভোটের মাধ্যমে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন পেয়েছেন।

পার্লামেন্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের অনুরোধের ভিত্তিতে দেশটির আত্মরক্ষায় সহায়তা করতে আল‑সিসিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে উপসাগরীয় ও লোহিত সাগরজুড়ে চলমান সংঘাতে মিসরের সরাসরি জড়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে মিসরের সাবেক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হুসেইন হারিদি জানান, কায়রোর অংশগ্রহণ আত্মরক্ষামূলক সীমার মধ্যে থাকবে।

হুতি গোষ্ঠীর রাজনৈতিক শাখার সদস্য মোহাম্মদ আলি আল‑হুতি এই অনুমোদনকে "যুদ্ধ ঘোষণা" বলে অভিহিত করেছেন এবং সাম্প্রতিকভাবে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মক্কায় স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইরানের প্রতি স্পষ্ট আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা বাকি দুই দেশের ওপরেও হামলা হিসেবে গণ্য হবে। তবে হুতি গোষ্ঠী এই চুক্তির ভিত্তিতে কোনো সামরিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

সৌদি আরবের দুটি অঞ্চলকে লক্ষ্য করে হুতি গোষ্ঠীর ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের তথ্য জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল‑মালকি এক্সে এক পোস্টে প্রকাশ করেছেন; জোটের মতে, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং দক্ষিণাঞ্চলে চারটি ড্রোন ছোড়া হয়েছে।

অন্যদিকে, হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা বন্ধের বিনিময়ে ১ বিলিয়ন ডলার (১০০ কোটি ডলার) প্রদানের প্রস্তাব করেছে; এই প্রক্রিয়ায় ইরান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে, তবে অর্থ হস্তান্তরের নিশ্চিততা এখনও পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োমের মাধ্যমে এফপি, রয়টার্স ও আল জাজিরার সূত্রে জানানো হয়েছে যে ইরান হুতি গোষ্ঠীর কাছে ১০০ কোটি ডলার আর্থিক প্যাকেজের প্রস্তাব দিয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি, বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের উদ্দেশ্যে।

© সমকাল