প্রথম আলো অনুসারে, পটুয়াখালীর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের নির্মাণ কাজ স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ করা হয়েছে। কাজ বন্ধের কারণ হিসেবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
কাজ বন্ধের পর কুয়াকাটা পৌরসভা ও কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন নির্মাণস্থলে একটি নিষেধাজ্ঞা ব্যানার টাঙিয়ে দেয়। ব্যানারে লেখা আছে যে, অনুমোদনবিহীন নির্মাণের ফলে কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে এবং নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপস্থিত কর্মকর্তাবৃন্দ
কুয়াকাটা সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান এবং কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসিন সাদেক এই ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন। মো. ইয়াসিন সাদেক উল্লেখ করেন যে, অনুমোদনবিহীন নির্মাণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যানে ওই জমি রেলওয়ে স্থাপনার জন্য বরাদ্দ রয়েছে, তাই কাজ বন্ধ করা হয়েছে।
প্রকল্পের স্থান কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলি মৌজার এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানে, প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক (প্রায় ২১.৬৬ একর) জমিতে অবস্থিত। এখানে একটি মসজিদ এবং কনভেনশন হলের নির্মাণ কাজ চলছিল। নির্মাণ শুরু হয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর, কুয়াকাটা পৌর এলাকার মুসল্লিয়াবাদ গ্রাম সংলগ্ন এলাকায়। বর্তমানে অন্তত ছয় একর জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে জামায়াতের পিরোজপুর‑১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী (দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে) আছেন। হোটেলের ওয়েবসাইটে তার ছবি ও নাম চেয়ারম্যান হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছে। সামাজিক মিডিয়ায় প্রকল্পকে "বাংলাদেশের হালাল ট্যুরিজম" বলে প্রচার করা হচ্ছে এবং পাঁচ লাখ টাকায় শেয়ার কেনার সুযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
কোলাপাড়া উপজেলার হাড়িপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাখাইন উমাচান দাওয়ানি আদালতে জমির মালিকানা দাবি করে মামলা দায়ের করেছেন; তিনি জানান, এই জমির পূর্বপুরুষ ছিলেন চিথাও ও নাথাও।
প্রকল্পের স্থানীয় প্রতিনিধি মো. মনির মুসুল্লি প্রথম আলোকে জানান, তারা ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে অনুমোদন পত্র জমা দিয়েছে এবং কুয়াকাটা পৌরসভা থেকে অনাপত্তিপত্রও পেয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, কাজ বন্ধের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব থাকতে পারে।
মাসুদ সাঈদীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি পাওয়া যায়নি।
সমকাল, বাংলাদেশ ট্রিবিউন এবং ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে একই ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে; তবে সমকাল ও ইত্তেফাকের মতে কাজ বন্ধের দিন "মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর)" বলা হয়েছে, যেখানে প্রথম আলোতে "আজ মঙ্গলবার" উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও প্রকাশের তারিখ ২০২৬-১০-২৭ (বৃহস্পতিবার)। এই তারিখ সংক্রান্ত পার্থক্য উভয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই তথ্যগুলো প্রথম আলো থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং অন্যান্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।






