ঢাকা পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে এটি ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়’ আকারে ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূল অতিক্রমের সম্ভাবনা রয়েছে। এই পূর্বাভাসটি রোববার (২৫ অক্টোবর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের মো. শাহীনুল ইসলামের দ্বারা প্রকাশিত হয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগের দৈনিক পূর্বাভাস (ঢাকা পোস্ট)
২৫ অক্টোবর: চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু স্থানে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে; দেশের বাকি অংশে প্রধানত শুষ্ক ও আংশিক মেঘলা থাকবে। তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত।
২৬ অক্টোবর: চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক স্থানে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি সম্ভাব্য; অন্যান্য এলাকায় শুষ্ক ও আংশিক মেঘলা; তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
২৭ অক্টোবর: খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম বিভাগের বহু স্থানে এবং রাজশাহী, ঢাকা, সিলেটের দু’এক স্থানে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি; বাকি অংশে শুষ্ক; তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত।
২৮ অক্টোবর: খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম বিভাগের বহু স্থানে এবং রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেটের দু’এক স্থানে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি; তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
২৯ অক্টোবর: রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম বিভাগের বহু স্থানে এবং রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেটের দু’এক স্থানে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি; দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত, রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে আগামী পাঁচ দিনে সারাদেশে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে।
অন্যান্য মিডিয়ার প্রতিবেদন ও পার্থক্য
প্রথম আলো (প্রথম আলো) অনুসারে, একই নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে এবং ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়’ রূপে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। প্রথম আলোতে উল্লেখিত আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমানের মতে, ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বেশী হওয়ার সম্ভাবনা আছে এবং এর প্রভাব বাংলাদেশে কতটা হবে তা এখনও অনিশ্চিত; তিনি উল্লেখ করেছেন যে অন্ধ্রের উপকূল আঘাত করলে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ বাদে দেশের বেশিরভাগ এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে, এবং উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি সম্ভাব্য।
ইত্তেফাক (ইত্তেফাক) একইভাবে জানিয়েছে যে নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়’ রূপে অন্ধ্র প্রদেশের উপকূল অতিক্রমের ঝুঁকি রয়েছে এবং বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে। উভয়ই রোববার (২৫ অক্টোবর) আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাসের উল্লেখ করেছে, তবে নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এই তিনটি সূত্রের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হল ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা ও প্রভাবের বিষয়ে ব্যবহৃত শব্দ (ঢাকা পোস্টে ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়’, প্রথম আলোতে ‘বহু প্রবল ঘূর্ণিঝড়’) এবং সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রথম আলোতে উল্লেখিত ব্যতিক্রম। এছাড়া, প্রথম আলোতে মো. হাফিজুর রহমানের মন্তব্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেখানে ঢাকা পোস্টে মো. শাহীনুল ইসলামের পূর্বাভাস উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, উল্লিখিত তথ্যগুলো ঢাকা পোস্টের মতে এবং অন্যান্য মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে উপস্থাপিত হয়েছে; সঠিক প্রভাব ও তীব্রতা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া পর্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।






