গাজীপুর নগরীর কোনাবাড়িতে শ্রমিকরা বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেন। পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে ও লাঠি দিয়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করেন।
রবিবার ১১ নভেম্বর দুপুরে গাজীপুরের কোনাবাড়ির থানাধীন জরুন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে অর্ধশতাধিক শ্রমিক হাতে লাঠি নিয়ে কাশিমপুর থেকে কোনাবাড়ির জরুনের দিকে আসেন এবং আশপাশের কারখানায় ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকেন।
স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের কারখানার ভেতরে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরা শ্রমিকদের ধাওয়া দেন। খবর পেয়ে বিজিবিও ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে পুলিশ ও বিজিবি’র সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে ও লাঠি পেটা করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের বক্তব্য
গাজীপুর শিল্প পুলিশের সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, “সকাল থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত স্বাভাবিক ভাবেই চলছিল গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের কার্যক্রম। বেলা ৩টার দিকে ওই একই দাবি জানিয়ে মণ্ডল গ্রুপের বেশ কয়েকজন শ্রমিক জরুন মোড় আসছিল। তারা ৬ থেকে ৭টি কারখানায় ঢিল ছুঁড়লে শিল্প পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা তাদেরকে লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে তারা সরে যায়। এ সময় ওই এলাকার ৭টি কারখানা আজকের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়।”
অন্য কারখানায়ও শ্রমিক বিক্ষোভ
একই দিনে সকালে কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বসে থাকে। বেতন বৃদ্ধি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাসহ ১৪ দফা দাবিতে তারা কর্মবিরতি পালন করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। ছুটির পর শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে চলে যান।
ভান্নারা-মৌচাক এলাকায় অবস্থিত একই গ্রুপের জেনিথ ফুটওয়্যার লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরাও কাজ বন্ধ করে কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের একাংশ কারখানা থেকে বের হয়ে ভান্নারা-মৌচাক বাজারে জড়ো হন। শ্রমিকরা অভিযোগ করেন যে ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের আচরণ সন্তোষজনক নয় এবং সমস্যাগুলি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের সুপার (এসপি) আমজাদ হোসেন বলেন, “এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করেন। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি দিলে শ্রমিকরা চলে যায়। চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী কারখানার মজুরি কাঠামোর সঙ্গে বিজিএমইএর আওতাধীন পোশাক কারখানার মজুরি কাঠামোর কোনো মিল নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে, কারখানা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”
উপরের তথ্য ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা অনুযায়ী।





