প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, ভুটানের বিপক্ষে একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও বাংলাদেশ মাত্র এক গোল করতে সক্ষম হয়েছে। জয় নিয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে দলের ऊपर। ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে তাই কোচ টমাস ডুলি ফিনিশিংয়ে বাড়তি মনোযোগ দিচ্ছেন।

গতকাল ঘণ্টা দুয়েকের অনুশীলনে লম্বা সময় গোলের মহড়ায় কাটিয়েছে দল। কোচ ডুলি প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘গোল নিয়ে আমাদের প্রতি ম্যাচেই ভাবতে হয়। ভুটানের সঙ্গে এত এত আক্রমণ, তবু গোল মাত্র একটি! আমি খেলোয়াড়দের দোষ দিতে চাই না। তবে একজন পরীক্ষিত স্ট্রাইকার থাকলে এ রকম হতো না। যাকেই ওই পজিশনে দিচ্ছি, ব্যর্থ হচ্ছে। দ্রুত এর সমাধান দরকার।’

শ্রীলঙ্কা দলের লম্বা গড়নের ফরোয়ার্ডদের সামলানোর কৌশলও গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্বনাথ ঘোষকে আবারও ‘নম্বর নাইন’ পজিশনে খেলানোর ভাবনা রয়েছে কোচের। এছাড়া ফারহান আলী ও হামজা চৌধুরীর দলে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও নতুন পরিকল্পনায় ভূমিকা রাখছে।

গোলের সমস্যা কাটাতে শেখ মোরছালিনকে ফেরাতে চায় দল। মোরছালিন অনুশীলনে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এখন আমি পুরোপুরি সুস্থ। দলে সুযোগ পেলে ভালো কিছু করতে পারব।’ ভুটান ম্যাচে সুযোগ বর্জন নিয়ে তাঁর মতে, ‘বেশি গোল না হওয়ায় একদিক থেকে ভালোই হয়েছে। বেশি গোল দিয়ে ফেললে অতি আত্মবিশ্বাস কাজ করতে পারে। এখন আর সে সুযোগ নেই। সবাই গোলের জন্য ক্ষুধার্ত।’ তবে শ্রীলঙ্কাকে সহজ প্রতিপক্ষ ভাবছেন না তিনি।

ভুটান ম্যাচের আগে ওয়ার্মআপে চোট পাওয়া তপু বর্মণও অনুশীলনে ফিরেছেন, যদিও এখনো পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠেননি। টিম ম্যানেজমেন্ট পরের ম্যাচে তাঁকেও দলে চান।

তিন পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপে ভালো অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। আজ এই গ্রুপে দুটি ম্যাচ হচ্ছে। জাতীয় স্টেডিয়ামে বেলা সাড়ে ৩টায় মালদ্বীপ ও পাকিস্তান মুখোমুখি হবে। ১১ বারের লড়াইয়ে দুই দলই জিতেছে চারটি করে ম্যাচ, বাকি তিনটি ড্র। রাত ৮টায় শ্রীলঙ্কা ও ভুটান খেলবে। এই ম্যাচের ফলের দিকে চোখ আছে বাংলাদেশেরও। ৯ বারের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কা জিতেছে সাতবার, ভুটানের জয় দুটি। শ্রীলঙ্কা জিতলে বা ড্র হলে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল নিশ্চিত। ভুটান জিতলে ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি হবে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াই।

তবে তার আগে গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা বাড়াতে হবে বাংলাদেশকে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে তাই ফিনিশিংয়ে ধার ফেরানোর চেষ্টাতেই ব্যস্ত লাল-সবুজের দল।