বাংলা ট্রিবিউন অনুযায়ী, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে সিরাজগঞ্জ জেলায় কৃষি উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। জমি প্রস্তুতির থেকে সেচ, ফসল কাটা, মাড়াই ও পরিবহন পর্যন্ত ডিজেলচালিত যন্ত্রের ব্যবহার থাকায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি কৃষকদের ওপর পড়ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জে মোট ১ লাখ ৯২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৫২ হাজার ৭০৮ হেক্টর জমিতে ডিজেলচালিত ইঞ্জিন দিয়ে সেচ দেওয়া হয়, যা রোপা আমন আবাদি জমির প্রায় ২৭.৪৫ শতাংশ।
কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, এক বিঘা ধান চাষে গড়ে ৩৩ লিটার ডিজেল লাগে। ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১১৫ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা হওয়ায় বিঘা প্রতি জ্বালানি খরচ প্রায় ৬৬০ টাকা বেড়েছে। উল্লাপাড়ার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ১০ বিঘা জমিতে ডিজেল খরচে অতিরিক্ত প্রায় ৬ হাজার ৬০০ টাকা লাগছে, কিন্তু ফসলের দাম সে অনুপাতে বেড়েছে না।
কৃষক আবদুর রহমান শেখ জানান, সেচ পাম্প মালিকরা পানির দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। হারভেস্টার ও ট্রলি ভাড়াও বেড়েছে। রায়গঞ্জের কৃষক সুজাবত আলী বলেন, এক মণ ধান ঘরে তুলতে ১ হাজার টাকার বেশি খরচ হচ্ছে, কিন্তু মৌসুমে সর্বোচ্চ বাজারদর ১ হাজার টাকা, ফলে লোকসান হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস অনুযায়ী প্রতি মণ ধান উৎপাদন খরচ প্রায় ৮০০ টাকা, কিন্তু কৃষকরা ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করছেন। নভেম্বরের শেষে বোরো বীজতলা শুরু হলে সারা মৌসুম সেচের প্রয়োজন হবে, ফলে বোরো মৌসুমেও ডিজেলের বাড়তি দামের প্রভাব পড়বে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মনজুর এ মওলা স্বীকার করেছেন যে তেলের দাম বৃদ্ধিতে কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে সরকার সব বিষয় বিবেচনা করে ধানের দাম বাড়ালে কৃষকরা কিছুটা লাভবান হতে পারবেন।






