সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৭০ জন চরমপন্থি সদস্য দীর্ঘদিনের সশস্ত্র তৎপরতা ছেড়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। সারাবাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১২-এর প্রধান কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এসআরবি-১২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আতিকুর রহমান মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তিন জেলার ৭০ জন চরমপন্থি আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তাদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে চ্যানেল ২৪ ও ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে আত্মসমর্পণকারীদের সংখ্যা ৬৫ জন উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসআরবির মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ। এ ছাড়া জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম খান আলিম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল ইফতেখার আহমেদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ এবং রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) শাহানা আখতার জাহান।
একসময় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে চরমপন্থিদের সশস্ত্র তৎপরতা ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। হত্যা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত ছিল নিয়মিত ঘটনা। আশির ও নব্বইয়ের দশকে এসব সংগঠনের বিস্তার আরও বাড়ে।
বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্যোগে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে শতাধিক চরমপন্থি সদস্য অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনায় ৫৯৬ জন এবং ২০২৩ সালের ২১ মে সিরাজগঞ্জে সাত জেলার ৩২৩ জন চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই আত্মসমর্পণের মাধ্যমে তিন জেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নতুন মাত্রা পাবে।





