Prothom Alo English অনুযায়ী, পদ্মা বাঁধ প্রকল্পটি ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে সমীক্ষা ও পরিকল্পনার পর এখন বাস্তবায়ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ১৩টি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সংস্থা ৪ বছরের সমীক্ষা, গাণিতিক মডেলিং, শারীরিক মডেল পরীক্ষা, পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়নসহ একটি সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল গঙ্গা নদীর প্রবাহকে সংরক্ষণ করে দক্ষিণপশ্চিমের নদীগুলিতে, বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে, পর্যাপ্ত তাজা পানি সরবরাহ করা। ২.১ কিমি লম্বা বাঁধটি পাঙ্কসা, রাজবাড়ি জেলায় গঙ্গার ৩৭ কিমি উপরে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ৭৮টি প্রধান জল নির্গমন পথ, ১৮টি নিম্ন নির্গমন পথ, দুইটি মাছের পথ, একটি নেভিগেশন লক, চার লেনের রাস্তা ও প্রয়োজনীয় নদী ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত।
প্রথম পর্যায়ের ব্যয় প্রায় ৩৪৪.৯৭ বিলিয়ন টাকার অনুমান, যা ECNEC দ্বারা ১৩ মে ২০২৬-এ অনুমোদিত হয়েছে এবং ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারিত। প্রকল্পটি প্রায় ২,৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ ও ১১৩ মেগাওয়াট হাইড্রোইলেকট্রিসিটি উৎপাদনের লক্ষ্য রাখে।
পদ্মা বাঁধের মাধ্যমে হিশ্না‑মাথাভাঙ্গা, গারাই‑মধুমতি, চন্দনা‑বারাসিয়া, বারাল ও ইচহামতি নদী সিস্টেমগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শুকনো মৌসুমে গঙ্গা পানি সংরক্ষণ ও প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্যুন্দারবান ও খালনা, বাগেরহাট, সাতখিরা অঞ্চলে লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ, কৃষি ও মাছ ধরার উন্নতি, নেভিগেশন ও জলাধার ব্যবস্থাপনা সহ বিভিন্ন সুবিধা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে রয়েছে সেডিমেন্ট ব্যবস্থাপনা, উপরের প্রবাহে পানি প্রাপ্যতা, নীচের প্রবাহের প্রয়োজনীয়তা, নদী ক্ষয় ও পরিবেশগত প্রভাব। সম্ভাব্যতা প্রতিবেদনে ১৮টি নিম্ন জল নির্গমন পথ অন্তর্ভুক্ত, যা ১.৫ মিটার নিচে অবস্থিত, যাতে সেডিমেন্টযুক্ত পানি নীচে প্রবাহিত হতে পারে। গেটগুলি ১০ জুলাই থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত তিন মাস খোলা থাকবে, যাতে সেডিমেন্ট নীচে প্রবাহিত হয়।
মার্চ ও এপ্রিল মাসে ন্যূনতম ৯,০০০ কিউসেকস পানি নীচে প্রবাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে, অন্য শুকনো মাসে উচ্চতর প্রবাহ বজায় রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। নদী ক্ষয় রোধে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও ব্যাংক সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত।
ইয়েমেন সংঘর্ষ: ২৪‑ঘণ্টা অভিযান ও ফলাফল
ঢাকা পোস্ট অনুযায়ী, ইয়েমেনের সামরিক অভিযান ২৪ ঘণ্টা ধরে চলেছে, সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত, যার ফলে ২৩৯ জন হুথি কমান্ডার ও যোদ্ধা নিহত হয়েছে। ৭৪৯টি আঘাতে ১১৭টি সামরিক যান ও যুদ্ধ সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে। এই অভিযানকে ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’ বা ‘ইয়েমেনের ভোর’ বলা হয়েছে।
অভিযানের লক্ষ্য ছিল হুথি কমান্ড সেন্টার, দুর্গ, ফায়ারিং পজিশন, জমায়েতের স্থান ও সরবরাহ রুটকে লক্ষ্যবস্তু করা, যাতে তাদের মাঠ পর্যায়ের কমান্ড কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং সরবরাহ রুট বন্ধ হয়। এই অভিযান সফল হয়েছে বলে দাবি করেছেন কর্নেল মাজিদ আল নুজাইলি।
অভিযানটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ তাইজে, আল-জওফ, মারিব ও আল-বায়দা সহ অন্যান্য প্রদেশে চলমান রয়েছে। একই সময়ে, ইয়েমেনের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারী উল্লেখ করেছেন যে সৌদি যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ১০১টি হামলা চালানো হয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল সানা ও বিভিন্ন প্রদেশের সামরিক স্থাপনা।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মোট বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সংখ্যা ৩,৪৮০ পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে উভয় পক্ষের তথ্য অনুযায়ী উল্লেখ করা হয়েছে।
উভয় ঘটনায়ই বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে; উদাহরণস্বরূপ, হুথি নিহতের সংখ্যা ও আঘাতের সংখ্যা বিভিন্ন সূত্রে ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই তথ্যগুলি নিশ্চিত করার জন্য আরও যাচাই প্রয়োজন।






