ঢাকা পোস্ট অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকায় দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত আবু ইউসুফ ওরফে জীবন (২৭) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং জানান, পায়ে গুরুতর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। অস্ত্রোপচার করে তার ডান পা কেটে ফেলতে হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পরিচিতদের বরাতে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কে জীবনসহ চার‑পাঁচজন আড্ডা দিচ্ছিলেন। সেই সময় ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ইকরাম বাবু, আরমান, মেহেদী ও নাবিদসহ ১৩ থেকে ১৪ জনের একটি সশস্ত্র দল সেখানে হাজির হয়। হামলাকারীদের কয়েকজনের মাথায় হেলমেট পরা ছিল এবং তাদের হাতে ছুরি ও পিস্তল ছিল।
হামলাকারীরা প্রথমে জীবনকে বেধড়ক কিল‑ঘুষি মারে এবং পরে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে। একপর্যায়ে ইকরাম বাবু পিস্তল বের করে জীবনের পা লক্ষ্য করে গুলি চালান। এরপর হামলাকারীরা হত্যার হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহত অবস্থায় জীবনের দেওয়া একটি ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তিনি ইকরাম বাবু ও আরমানের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাত ও গুলি করার সরাসরি অভিযোগ করেন।
নিহতের পরিবার ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবন গত দুই বছর ধরে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের প্রচার সম্পাদক জিল্লুর রহমান জুয়েলের অনুসারী হিসেবে বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। তবে, সম্প্রতি তিনি যুবদলের রাজনীতি ছেড়ে নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরুজ্জামান শিমুলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। এর ফলে, জুয়েলের ভাগনে মেহেদী ও তার অনুসারীদের সঙ্গে জীবনের বিরোধ সৃষ্টি হয়।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঘটনার পরদিনই জীবনের মা বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলায় যুবদল নেতা জিল্লুর রহমান জুয়েলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যেহেতু চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবনের মৃত্যু হয়েছে, তাই এখন দায়েরকৃত মামলায় ৩০২ ধারা (হত্যা মামলা) যুক্ত করা হবে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।






