প্রথম আলো অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) কর্মকর্তাদের গাড়িতে মাসে ৪০০ থেকে ৬০০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, অথচ সরকারি নির্দেশনায় প্রাধিকারপ্রাপ্ত গাড়ির জন্য মাসে ২০০ লিটার এবং সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য সর্বোচ্চ ২৫০ লিটার জ্বালানির সীমা নির্ধারণ করা আছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাড়তি বরাদ্দের তেল বিক্রি করে দেন চালকদের একাংশ। কর্মকর্তাদের কেউ কেউ তা জেনেও নীরব থাকেন বলে অভিযোগ আছে। তাঁদের কেউ কেউ দাপ্তরিক কাজের বাইরে নিজেদের ও পরিবারের প্রয়োজনে চালকসহ গাড়ি ব্যবহার করেন। এমনকি রোগী পরিবহনের অ্যাম্বুলেন্সেও কর্মকর্তাদের বাসা থেকে অফিসে যাতায়াতের তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেছেন, সংস্থায় নিজস্ব নীতিমালা না থাকলেও সরকারের বিদ্যমান নীতিমালা অবশ্যই মেনে চলতে হবে। তিনি বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।

মশিউর রহমান খান, সচিব ও অতিরিক্ত দায়িত্ব পরিবহন শাখা, ডিএসসিসি, জ্বালানি বরাদ্দের ভিত্তি জানতে চেয়েছেন কিন্তু এখনো তথ্য পাননি।

করপোরেশনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, জ্বালানি বরাদ্দের নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ একাধিকবার নেওয়া হয়েছিল কিন্তু তা আর এগোয়নি। পুরোনো পরিমাণেই তেল দেওয়া হচ্ছে।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খয়বর রহমানের জন্য দুটি গাড়ি বরাদ্দ রয়েছে, যেগুলিতে মাসে প্রায় ৯৩০ লিটার জ্বালানি দেওয়া হয়, যার ব্যয় প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৫০ টাকা।

অ্যাম্বুলেন্সও ব্যবহার হচ্ছে: ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সাবিনা খাতুনের নামে বরাদ্দ অ্যাম্বুলেন্সে ৫১২ লিটার ডিজেল, ঢাকা মহানগর শিশু হাসপাতালের পরিচালক হামিদা খাতুনের নামে ২৮৬ লিটার, এবং নাজিরাবাজার মাতৃসদনের উপপরিচালক কাম পরিদর্শক সাথী খানমের নামে ২৩০ লিটার। মোট এক মাসে ১,২৮ লিটার ডিজেল, ব্যয় ১ লাখ ১৮ হাজার ২২০ টাকা।

ডিএসসিসির ৭৬ জন কর্মকর্তার প্রত্যেকের একটি গাড়িতে মাসে ২৫০ লিটার করে জ্বালানি বরাদ্দ ধরলে মোট প্রয়োজন ১৯ হাজার লিটার, মাসিক ব্যয় ২৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। বর্তমানে বরাদ্দে বছরে প্রায় ৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে, ফলে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে।