চ্যানেল ২৪ অনুযায়ী, হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থমূলক রিট দাখিল করা হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে বিদেশে বাংলাদেশি নাগরিকদের সময়মতো কনস্যুলার সহায়তা প্রদানে ব্যর্থতা।

রিটে বিশেষভাবে সৌদি আরবে ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলির আলোকে রুল ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

সারাবাংলা অনুযায়ী, আবেদনকারী হলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও এফএম অ্যাসোসিয়েটসের পার্টনার অ্যাডভোকেট তাসমিয়াহ নুহিয়া আহমেদ, যিনি নিজেই রিটটি দায়ের করেছেন।

সারাবাংলা অনুযায়ী, রিটে পররাষ্ট্রসচিব, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক, সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল এবং সেখানকার শ্রমকল্যাণ উইংয়ের প্রধানকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে চাওয়া হয়েছে যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব মিশনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠায়, যার মধ্যে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশিদের মামলাগুলো জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা, আপিল ও ক্ষমার আবেদনের সময়সীমা নির্ধারণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ এবং আইনসম্মত কনস্যুলার যোগাযোগ ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অন্তর্ভুক্ত।

রিটে আরও চাওয়া হয়েছে ১৪ দিনের মধ্যে হলফনামা দাখিলের নির্দেশনা, যাতে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কী ধরনের নথি ছিল এবং কী সহায়তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল তা ব্যাখ্যা করা হয়।

রিটে উল্লেখ করা হয়েছে যে বিদেশে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের অনেকের পরিবারের পক্ষে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সামর্থ্য নেই এবং ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা ও প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে, তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ও সময়োপযোগী ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রিটে আবেদনকারী সরকারী নথির ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর নেওয়া কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলোর পর্যালোচনা চেয়েছেন, যাতে সহায়তা যথাসময়ে দেওয়া হয়েছিল কি না তা যাচাই করা যায়।

রিটে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের পরিচয়, মামলার বিবরণ এবং কনস্যুলার সহায়তার প্রকৃত অবস্থা সরকারি নথির মাধ্যমে যাচাইয়ের আবেদনও জানানো হয়েছে।