ইত্তেফাকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বেসরকারি খাতে নতুন বিনিয়োগের গতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা সম্প্রসারণেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না উদ্যোক্তারা। উচ্চ সুদহার, জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে সেপ্টেম্বর মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত তিন দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য তুলে ধরে ইত্তেফাক জানায়, চলতি বছরের মার্চ থেকে টানা সাত মাস বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টে ব্যাংক খাতে আমানত বেড়ে ২১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা হলেও ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ঋণপ্রবাহ বাড়াতে গত ৩০ জুলাই নীতি সুদহার কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও ঋণের চাহিদা বাড়েনি।
ব্যবসায়ী ও খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু ঋণের সুদ কমিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব নয়। গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং কর ও ভ্যাট ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে চার শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়েছে এবং অনেক কারখানায় উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। অন্যদিকে খেলাপি ঋণের চাপ এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কারণে ব্যাংকগুলোও নতুন ঋণ বিতরণে সতর্ক রয়েছে।
ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবু আহমেদ ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, এই সমস্যাগুলো বিগত কয়েক বছর ধরেই চলছে এবং সরকারকে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।






