ইত্তেফাকের রিপোর্ট অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের দুই প্রধান সূচক – ব্রেন্ট ক্রুড এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) – উভয়ই হ্রাস পেয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুসারে, ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮২ সেন্ট (০.০৭%) কমে ১১৪ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে আসে, আর ডব্লিউটিআই ১ ডলার ৪ সেন্ট (১%) হ্রাস পেয়ে ১০১ ডলার ৭৪ সেন্টে পৌঁছেছে।
ইত্তেফাক উল্লেখ করেছে যে, সংঘাতের অবসান এবং শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা এই মূল্যহ্রাসের প্রধান কারণ। একই দৃষ্টিকোণ ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদনে পুনরায় উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনৈতিক উদ্যোগের পর বাজারে বিক্রির চাপ বাড়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে, ইত্তেফাক এবং ঢাকা টাইমস উভয়ই জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইয়েমেনসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের অব্যাহত ঝুঁকি সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদনে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকা টাইমসের নোমুরা সিকিউরিটিজের অর্থনীতিবিদ ইউকি তাকাশিমা বলেছেন, শান্তি আলোচনার প্রত্যাশা বাজারে বিক্রির চাপ বাড়িয়েছে, তবে দাম হ্রাস সীমিত রয়ে গেছে।
ঢাকা টাইমস আরও জানিয়েছে যে, কাতারের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধের একটি খসড়া চুক্তি তেহরানে উপস্থাপন করা হয়েছে, তবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তা গ্রহণযোগ্য না বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই প্রতিবেদনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
আজকের পত্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনার উদ্যোগের খবরও প্রকাশিত হয়েছে; তবে এই তথ্য ইত্তেফাকের মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই এবং তাই ভিন্ন দৃষ্টিকোণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকা টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (EIA) ২৩ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে বাণিজ্যিক ক্রুড মজুতে ১.৯ মিলিয়ন ব্যারেল হ্রাস রেকর্ড করেছে, যা রয়টার্সের পূর্বাভাসের বিপরীত। একই সময়ে পেট্রল মজুতে ৩.৯ মিলিয়ন ব্যারেল বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইত্তেফাকের বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যদি সংঘাত পুনরায় তীব্র হয়, সরবরাহ সংকটের ফলে তেলের দাম আবার বাড়তে পারে।




