ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্রিক মাইনের আঘাতে চারটি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইনডিপেনডেন্ট টিভির খবর অনুযায়ী, আইআরজিসির নৌবাহিনী দাবি করেছে যে, তিনটি ট্যাংকার প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলের অনুমোদনহীন পথে রাডার ও নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ রেখে চলাচলের চেষ্টা করার সময় মাইনের আঘাত পেয়েছে। আরেকটি ট্যাংকার প্রণালির পূর্বাঞ্চলে মাইনে আঘাত পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

আইআরজিসির দাবি

আইআরজিসি অনুযায়ী, তারা আগে থেকেই সতর্ক করেছিল যে দক্ষিণাঞ্চলের অননুমোদিত পথে মাইন পেতে রাখা হয়েছে। তবে তিনটি ট্যাংকার সতর্কতা উপেক্ষা করে ওই পথ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। প্রথম আলোর রিপোর্টে বলা হয়, আইআরজিসির বিবৃতিতে উল্লেখ রয়েছে যে জাহাজগুলো কোন দেশের পতাকা বহন করছিল এবং ঠিক কোন সময়ে ঘটনাটি ঘটেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যাচ্ছে না।

মার্কিন দাবি ও প্রতিবাদ

এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে যে, তারা হরমুজ প্রণালির প্রধান নৌপথগুলো থেকে সব মাইন অপসারণ করেছে। কিন্তু আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি এক্স (পূর্বে টুইটার) পোস্টে এই দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে যথাযথ প্রমাণ চেয়েছেন। ইত্তেফাকের খবর অনুযায়ী, ইরানের সেনাবাহিনিও আলাদা বিবৃতিতে প্রণালির পূর্বদিকে আরও একটি জাহাজে মাইন বিস্ফোরণের তথ্য দিয়েছে।

ড্রোন নিয়ে তনাব

ঘটনার একদিন আগে তেহরান দাবি করেছিল, হরমুজ প্রণালির আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-ওয়ান প্রিডেটর ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্সের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়েছে এবং একটি মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটি নিরাপদে অবতরণ করানো হয়েছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এই দাবিগুলো নাকচ করেছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমানের খাসাবের উত্তর-পূর্বে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে আগুন লাগার খবর পেয়েছে। এর আগে ওই এলাকায় আরও দুটি নৌযানে আগুন ধরার তথ্য জানিয়েছিল সংস্থাটি। দেশ রূপান্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে একাধিক জাহাজে আগুন ধরার ঘটনা ঘটেছে।