ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রদল নেতা এস এম শাহরিয়ার আলম সাম্য (২৫)কে ছুরিকাঘাতের পর মৃতদেহ দেখতে পেয়ে তার বাবা ফখরুল আলম বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা ১৯তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মমিনুল ইসলামের আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

ফখরুল আলম জানান, ২০২৫ সালের ১৩ মে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার কাছে ফোনে জানানো হয় যে সাম্যকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তিনি দ্রুত সিএনএসিতে করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে মর্গে তার ছেলের মৃতদেহ দেখেন।

বাবার মতে, রাত ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে সাম্য ও তার বন্ধু বায়েজিদ ও রাফি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খাবার খেতে গিয়েছিলেন। খাবার শেষ করে ফেরার পথে রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্ত মঞ্চের উত্তর‑পশ্চিম কোনায় পৌঁছালে কয়েকজন ‘সন্ত্রাসী’ তাদের কাছে গিয়ে সাম্যকে ছুরি দিয়ে মেরে ফেলেন।

সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং ২০১৮‑১৯ শিক্ষাবর্ষে এফ রহমান হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন।

মামলার অগ্রগতি

বেঞ্চ সহকারী আশরাফুল আমিন জানান, ফখরুল আলমের সাক্ষ্য শেষে পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ১৮ নভেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। মামলায় ইতিমধ্যে তিনজনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে: সাম্যের বড় ভাই এস. এ. এ. এম. শরীফুল আলম (৮ আগস্ট) ও ক্লাসমেট আশরাফুল আলম রাফি (২৭ সেপ্টেম্বর)।

৩ মে সাতজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। অভিযুক্তরা হলেন মেহেদী হাসান, মো. রাব্বি (কবুতর রাব্বি), মো. রিপন (আকাশ), নাহিদ হাসান পাপেল, মো. হৃদয় ইসলাম, মো. হারুন (রশিদ সোহাগ/লম্বু সোহাগ) ও মো. রবিন। এদের মধ্যে রাব্বি ও হৃদয় পলাতক, বাকি অভিযুক্তরা জামিনে আছেন।

সাম্যের বড় ভাই শরীফুল ইসলাম ১৪ মে শাহীবাগ থানায় ১০‑১২ জনকে অভিযুক্ত করে FIR দায়ের করেন। ডিবি পুলিশের রমনা বিভাগের ইন্সপেক্টর মো. আখতার মোর্শেদ ৩০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তার মতে, সাম্যকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাঁজা বিক্রি নিষেধ করার কারণে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।

তথ্য অনুসারে বাংলা ট্রিবিউন জানিয়েছে।