ইনকিলাব অনুসারে, স্পেনে দুটি হাই-স্পিড ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৩৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। রেনফে এভি (Renfe AVE) এবং ইরিও (Iryo) ট্রেনগুলো বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টার ঠিক আগে তলেদো প্রদেশের উরদা ও লস ইবেনেস শহরের কাছাকাছি এলাকায় ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের তীব্রতায় দুইটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পাশের খাদের নিচে পড়ে।

আদিফ (Adif) রেল অবকাঠামো অপারেটর অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ‑আন্দালুসিয়া রুটের সমস্ত রেল যোগাযোগ স্থগিত করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন জরুরি সহায়তা কেন্দ্র খুলে উদ্ধারকর্মে লিপ্ত হয়েছে।

অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে মৃত্যুর সংখ্যা ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকা টাইমস, সমকাল এবং আজকের পত্রিকা সবই অন্তত ১০ জন নিহতের তথ্য দিয়েছে, যেখানে ইত্তেফাক আবার ৩৯ জনের উল্লেখ করেছে, যা ইনকিলাবের সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ঘটনার সময় সম্পর্কেও পার্থক্য রয়েছে। ইনকিলাব ও সমকাল ঘটনাটি সকাল ৯টার কাছাকাছি ঘটেছে বলে জানায়, অন্যদিকে ইত্তেফাক স্থানীয় সময় ৮:৫৪ মিনিটে সংঘর্ষের তথ্য প্রদান করেছে।

ঘটনার স্থান সম্পর্কে রিপোর্টে পার্থক্য দেখা যায়। ইনকিলাব ও ঢাকা টাইমস উরদা ও লস ইবেনেসের নিকটবর্তী তলেদো প্রদেশের এলাকাকে উল্লেখ করেছে, ইত্তেফাকও উরদা এলাকার কাছাকাছি ঘটনার কথা বলেছে, আর সমকাল মাদ্রিদের দক্ষিণে মোরো ও অর্গাজ পৌর এলাকার মধ্যে সংঘর্ষের উল্লেখ করেছে।

দু'টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার তথ্য সব সূত্রে উল্লেখ আছে; সমকাল ও ঢাকা টাইমস বিশেষভাবে ইরিও ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছে।

প্রতিক্রিয়া হিসেবে, সমকাল প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলে তিনটি হেলিকপ্টার, দুইটি মোবাইল মেডিকেল ইউনিট এবং একাধিক ফায়ার সার্ভিস ইউনিট পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদনে জরুরি সেবাকর্মীদের জন্য একটি ক্রীড়া হলকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, ঢাকা টাইমসের তথ্য অনুযায়ী স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে এবং বিরোধী পিপলস পার্টি তাদের নির্বাচনী প্রচার স্থগিত করেছে।

ইনকিলাবের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চলতি বছরে এটি দ্বিতীয় বড় হাই-স্পিড ট্রেন দুর্ঘটনা; প্রথমটি ১৮ জানুয়ারি ঘটেছিল, যেখানে ৪৫ জন নিহত এবং ১৭০ জন আহত হয়েছিল। তবে ঢাকা টাইমসের তথ্য অনুযায়ী একই রেলপথে জানুয়ারির দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হয়েছেন।