সমকাল অনুসারে, গার্মেন্টস শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, জীবনমানের উন্নয়ন ও শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১০ দফা দাবি আদায়ের জন্য জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কনভেনশন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কনভেনশনটি শনিবার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে গার্মেন্টস শ্রমিক উন্নয়ন মঞ্চের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।

কনভেনশনের প্রধান অতিথি, শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি মৌলিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্ন বলে জোর দিয়েছেন। তিনি শ্রমিকের রক্তের দাগ রাজপথে লেগে থাকার কথা উল্লেখ করে মজুরি বোর্ডের দায় আর্থিক ক্ষতিপূরণে শেষ করা যাবে না, বরং ন্যায্য মজুরির মাধ্যমে তা প্রতিফলিত করতে হবে বলে বলেছেন।

বক্তা শ্রমিক সংগঠনের ঐক্যের গুরুত্বেও জোর দেন। তিনি বলেন, শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে রাজপথে, আলোচনার টেবিলে ও গণমাধ্যমে লড়াই করতে হয় এবং বিভিন্ন মতের সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

কনভেনশনের সভাপতি, গার্মেন্টস শ্রমিক উন্নয়ন মঞ্চের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, গার্মেন্টস শিল্পের আন্তর্জাতিক অবস্থান ও শ্রমিকের ভূমিকা তুলে ধরে, ২০২৩ সালে গাজীপুরে ন্যূনতম মজুরি দাবিতে গুলিতে চার শ্রমিকের মৃত্যু ও তৌফিক শেখের মৃত্যুর উল্লেখ করেন। তিনি মূল্যবৃদ্ধি ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধির ফলে শ্রমিকদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করে, সরকারী উদ্যোগে স্বল্পমূল্যের আবাসন ও রেশনিং চালু করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের সদস্য বাবুল আক্তার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান, বাংলাদেশ শ্রমিক ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুর রহমান, শ্রমিক সংহতির সভাপতি রুহুল আমীন, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন শহীদ এবং বাংলাদেশ লেবার কংগ্রেসের সভাপতি শামীমা আক্তারসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা মতামত প্রকাশ করেন।

বক্তারা সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, সম্মানজনক জীবনমান, আবাসন, রেশনিং ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।