বাংলা ট্রিবিউন অনুযায়ী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম রোববার, ১ নভেম্বর, রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত জাতীয় যুব দিবসের সম্মেলনে গঙ্গা পানির প্রবাহ বন্ধ হলে ভারতীয় পণ্য, করিডোর ও ট্রানজিট বন্ধ হবে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, "যদি বাংলাদেশে পানি না আসে, তাহলে কোনও করিডোর হবে না, কোনও ট্রানজিট হবে না, কোনও ভারতীয় চ্যানেল বাংলাদেশে চলবে না।"

সম্মেলনের থিম ছিল "রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও তরুণদের কর্মসংস্থান"। নাহিদ ইসলাম মাওলানা ভাসানীর লং মার্চের ইতিহাস উল্লেখ করে, "ইনশাআল্লাহ, যদি এরকম কিছু হয় আমরা আবারও লং মার্চের জন্য প্রস্তুত আছি" বলে মন্তব্য করেন।

তিনি সরকারের ঋণ নীতি ও জাপান সরকারের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেন, জাপানকে "বন্ধু রাষ্ট্র" বলে উল্লেখ করে, অতীতে জাপান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে বলে উল্লেখ করেন এবং জাপানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে তা সংসদে আলোচনা ব্যতীত পাস করা যাবে না বলে সতর্ক করেন।

নাহিদ ইসলাম সংবিধান সংশোধন নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদের মতামত চাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে, "এখানে নতুন করে আর কোনও আলোচনার কিছু নেই, এখন বাস্তবায়নের সময়, অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার করতে হবে" বলে দাবি করেন।

শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দাবির বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেন; সরকার সরকারি কর্মচারীদের বেতন ভাতা বাড়িয়েছে, কিন্তু বেসরকারি ও শ্রমিকদের বেতন বাড়েনি, তাই অবিলম্বে ন্যায্য মজুরি নির্ধারণের আহ্বান জানান।

সম্মেলনে এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভার সভাপতিত্ব করেন যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন যুবশক্তির সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল।

অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনও একই বক্তব্য পুনরায় উল্লেখ করেছে। ইত্তেফাক, আজকের পত্রিকা এবং বার্তা২৪ সবই নাহিদ ইসলামের মন্তব্যকে তুলে ধরে যে গঙ্গা পানির অভাবে ভারতীয় পণ্য ও ট্রানজিট বন্ধ হবে। আজকের পত্রিকা অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেছে যে তিনি বলেছিলেন, "ভারতীয় পণ্য, করিডোর ও ট্রানজিট বন্ধ করা হবে" এবং বিএনপি সরকারকে ভারতের সঙ্গে চুক্তি করার অভিযোগে সমালোচনা করেছেন।

এই সব তথ্য বাংলা ট্রিবিউন এবং উল্লিখিত অন্যান্য আউটলেটের রিপোর্টের ভিত্তিতে উপস্থাপিত।