বিবিসি বাংলা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা আইসিডিআরবি এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে যে বাংলাদেশে তৈরি অ্যালুমিনিয়াম রান্নার পাত্র থেকে সিসা (লেড) ভাত ও খিচুড়িতে লিকেজ হচ্ছে। গবেষণায় নতুন পাত্রের প্রথম ব্যবহারেই প্রতি কেজি সাদা ভাতে সর্বোচ্চ ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম এবং খিচুড়িতে সর্বোচ্চ ৪২০ মাইক্রোগ্রাম সিসা পাওয়া গেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের FDA নির্ধারিত ১০ মাইক্রোগ্রাম সীমা থেকে অনেক বেশি।
আইসিডিআরবি উল্লেখ করেছে যে সিসা একটি বিষাক্ত ধাতু এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী রক্তে সিসার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। গবেষণায় দেখা গেছে পাত্রের ধাতু স্ক্রাবার দিয়ে ঘষা বা স্টিলের চামচ দিয়ে নাড়লে সিসা মুক্তি পাঁচ গুণ পর্যন্ত বাড়ে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএ) চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অ্যালুমিনিয়াম পাত্রের মান নির্ধারণের কাজ সময়সাপেক্ষ হলেও চলমান। তিনি এ ধরনের পাত্র ব্যবহার না করার জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।
চট্টগ্রাম অ্যালুমিনিয়াম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি হারুনুর রশিদ স্বীকার করেছেন যে অধিকাংশ কারখানায় মান যাচাইয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই এবং এটি পুরো শিল্পের সমস্যা। সমিতির সাবেক সভাপতি একরামুল হকও উল্লেখ করেছেন যে বড় কিছু প্রতিষ্ঠান পাত্র পরীক্ষা করে, তবে অনেক ছোট প্রতিষ্ঠান স্ক্র্যাপ ধাতু ব্যবহার করে এবং কোনো তদারকি নেই।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) পরিচালক মোঃ আলাউদ্দিন হুসাইন জানান, তারা ৩৯টি অ্যালুমিনিয়াম কুকওয়্যার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দুই দফা মিটিং করেছে, তবে এখনও কার্যকর সাড়া পাননি। তিনি বলছেন, এখন নিরাপত্তা মান প্রণয়নের প্রয়োজন এবং অভিযান শুরু করা হবে।
আইসিডিআরবি ও স্ট্যানফোর্ডের গবেষণাটি ‘Nature – Exposure Science & Environmental Epidemiology’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। সংস্থা বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআইকে পাত্রে সিসা সংক্রান্ত স্পষ্ট নিরাপত্তা মান নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছে।
বিবিসি বাংলা রিপোর্ট করেছে।





