স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ—আইসিডিডিআর,বি (ICDDR,B) যৌথভাবে পরিচালিত গবেষণায় অ্যালুমিনিয়াম পাত্রে সিসা (লেড) লিকেজের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়েছে। গবেষণাপত্রের শিরোনাম ‘টক্সিক কুকওয়্যার: লেড এক্সপোজার ফ্রম অ্যালুমিনিয়াম পটস ইন বাংলাদেশ’, যা ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জার্নাল অব এক্সপোজার সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এপিডেমিওলজি-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকরা স্থানীয় সরবরাহকারীর কাছ থেকে ২০টি নতুন এবং সাতটি পুরোনো অ্যালুমিনিয়াম হাঁড়ি সংগ্রহ করে সিসার উপস্থিতি ও রান্নার সময় লিকেজ পরিমাপ করেন। ভাত ও খিচুড়ি রান্না করে দেখা যায়, নতুন হাঁড়িতে প্রথমবারের রান্নায় ভাতে প্রতি কেজিতে ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম এবং খিচুড়িতে ৪২০ মাইক্রোগ্রাম সিসা পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের FDA শিশুখাদ্যের জন্য প্রতি কেজিতে ১০ মাইক্রোগ্রাম সীমা নির্ধারণ করেছে; ফলে এই মানের তুলনায় নতুন হাঁড়িতে সিসার মাত্রা যথাক্রমে ৩০ ও ৪২ গুণ বেশি।
একই পাত্রের পুনরাবৃত্ত ব্যবহারেও সিসা পাওয়া গেছে, যদিও পরিমাণ কমে। তদুপরি, স্টিলের তারের জালি দিয়ে হাঁড়ি ঘষলে সিসা লিকেজ প্রথম ব্যবহারে প্রায় পাঁচ গুণ, দ্বিতীয় ব্যবহারে তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যাসিটিক অ্যাসিডের (৪% দ্রবণ) অম্লতা বাড়ালে লিকেজের প্রবণতা বাড়ে।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, সব অ্যালুমিনিয়াম পাত্রে সিসা থাকে না; স্ক্র্যাপ ধাতু ব্যবহার করে তৈরি পাত্রে এই ঝুঁকি বেশি। গবেষক দলের সদস্যদের মধ্যে রাফায়েল কিম, আলিরেজা নামায়ানদেহ, হান্নাহ ম্যাকগোরান, আলান্দ্রা লোপেজ, জেসমিন সুলতানা, মুসা বাকের, মাহবুবুর রহমান, স্টিফেন পি লুবি, স্কট ফেনডর্ফ ও জেনা ই ফোরসাইথ অন্তর্ভুক্ত। জেনা ফোরসাইথ স্ট্যানফোর্ডের ‘প্রজেক্ট আনলেডেড’ কর্মসূচির পরিচালক এবং গবেষণার পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে যুক্ত ছিলেন।
এই তথ্য প্রথম আলো থেকে প্রাপ্ত।






