স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ শনিবার রাতে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় মন্তব্য করেন যে, যারা জুলাই ২৪‑এর অভ্যুত্থানকে একক ব্যক্তি বা দলের দায়িত্ব হিসেবে উপস্থাপন করবে, তারা রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে অদৃশ্য হয়ে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, "২৪ আমাদের আমাদের করতে থাকলে এটা কারো থাকবে না। এটা আসলে সবার।" (ইনডিপেনডেন্ট টিভি)
আওয়ামী লীগ ও এনসিপি-কে লক্ষ্য করে মন্তব্য
মন্ত্রীর মতে, মুক্তিযুদ্ধের ঠিকাদার হতে চেয়েছিলেন এবং চেতনা বিক্রি করে দিল্লিতে গিয়ে বসে গেছেন; এখন নবীনরা ২৪‑এর কৃতিত্ব একা দাবি করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই সবার, কারো একার নয়।" (ইনডিপেনডেন্ট টিভি)
আন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার প্রচেষ্টা এবং নির্বাচন পিছিয়ে রাখার ইচ্ছার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৭ নভেম্বরের দিনকে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ১৮৫৭ সালের পর দ্বিতীয় সিপাহী বিপ্লব এই দিনেই ঘটেছিল এবং তা দেশের সকলের সম্পদ। তিনি আরও বলেন, "অরক্ষিত স্বাধীনতা রক্ষা করা হয়েছে ৭ নভেম্বর।" (ইনডিপেনডেন্ট টিভি)
প্রধানমন্ত্রী তরিক রহমানের বক্তব্য
প্রথম আলো ইংরেজি অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী তরিক রহমান একই দিনে, নয়া প্লাটনে বিএনপি কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে, ৩ টায় একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণে দেশের স্বায়ত্তশাসন ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবার কথা বলেন। তিনি ৭ নভেম্বর ১৯৭৫‑এর সিপাহী-জনতা বিপ্লব এবং ৫ আগস্ট ২০২৪‑এর ছাত্র-জনতা উত্থানকে উল্লেখ করে বলেন, "যারা আবার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে, তারা আবার দেশের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করবে না।" (প্রথম আলো ইংরেজি)
তরিক রহমানের মতে, ৭ নভেম্বরের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের পারেড দেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রতীক। তিনি এটিকে বিএনপি-র একক সম্পত্তি হিসেবে না গিয়ে, সমগ্র জাতির গর্বের দিন হিসেবে উপস্থাপন করেন।
উভয় নেতার মন্তব্যে দেখা যায় যে ৭ নভেম্বরের দিনকে সকলের ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, তবে ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যায় পার্থক্য রয়ে গেছে।






