বাংলা ট্রিবিউন অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি আয় ১,058 কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ৯৯৭ কোটি ডলারের তুলনায় ৬.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস (বিএভি) সংকলনের ভিত্তিতে এই বৃদ্ধি প্রধানত ট্রাউজার, সোয়েটার‑কার্ডিগান এবং টি‑শার্ট‑ভেস্টের মতো মৌলিক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল।

বেসিক ও উচ্চমূল্য পণ্যের অবদান

তিনটি মৌলিক পণ্য থেকে অতিরিক্ত আয় প্রায় ৪৮.৩০ কোটি ডলার, যা মোট রফতানি বৃদ্ধির প্রায় ৮০ শতাংশ গঠন করে। সাধারণ (বেসিক) পোশাকের রফতানি আয় ৮২৬ কোটি ডলার, যা পূর্ববছরের ৭৬৯ কোটি ডলারের তুলনায় ৭.৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মোট রফতানির ৭৮.০৬ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, তুলনামূলিক উচ্চমূল্য ও বিশেষায়িত পোশাকের রফতানি ১৪৮ কোটি ডলার, মাত্র ১.৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে; এর অংশ মোট রফতানির ১৩.৯৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

শিশু পোশাকের রফতানি ১০.১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা আলোচিত পণ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধির হার। শার্ট ও ব্লাউজের রফতানি ১.৭৭ শতাংশ বাড়ে ৮৪.২০ কোটি ডলারে, তবে মোট রফতানিতে এর অংশ ৮.৩০ শতাংশ থেকে ৭.৯৬ শতাংশে কমেছে।

উন্নত পণ্যের অবনতি

উচ্চমূল্য পণ্যের মধ্যে আউটারওয়্যার ও টেকনিক্যাল ওয়্যার কিছুটা বাড়লেও, ড্রেস, স্পোর্টসওয়্যার‑অ্যাকটিভওয়্যার এবং স্যুট‑এনসেম্বলসের রফতানি যথাক্রমে ১০.৬৬, ১১.২৪ ও ১৪.৪৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, ফলে উচ্চমূল্য পণ্যের মোট অংশ হ্রাস পেয়েছে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল (বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “রফতানি বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও তা প্রধানত তিনটি মৌলিক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। উচ্চমূল্য ও বিশেষায়িত পোশাকের রফতানি কমে যাওয়া উদ্বেগের বিষয়।” তিনি পণ্যের বৈচিত্র্য ও মূল্য সংযোজন বাড়ানোর গুরুত্বও উল্লেখ করেন।

বার্তা২৪ এবং ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনেও একই রকম সংখ্যা ও বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে, যা মূল তথ্যের পুনরায় নিশ্চিতকরণ করে।