বাংলা ট্রিবিউনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি‑আগস্টে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে পোশাকের মোট আমদানি মূল্য ৬০.২৯ বিলিয়ন ইউরোতে নেমে এসেছে, যা পূর্ববছরের ৬২.৬৯ বিলিয়ন ইউরোর তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে পোশাকের আমদানি মূল্য ১৩.৫০ বিলিয়ন ইউরো থেকে কমে ১১.৯৩ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে, ফলে রফতানি আয় প্রায় ১.৫৮ বিলিয়ন ইউরো কমেছে।

পরিমাণের দিক থেকে, বাংলাদেশ থেকে ইইউতে পোশাক সরবরাহের পরিমাণ ৪.৫৮ শতাংশ কমে এবং গড় একক মূল্য ১৪.৮৭ ইউরো থেকে ১৩.৭৬ ইউরোতে নেমে ৭.৪৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ে চীন ও ভিয়েতনামের ইইউতে পোশাক রফতানি যথাক্রমে ২.৩৮ এবং ৪.৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিক্ষোভ ও ক্রয় আদেশের প্রভাব

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানি দাম ও আবাসন সংকট নিয়ে বিক্ষোভের সম্ভাবনা রফতানিকারকদের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। ফতুল্লা ফ্যাশন লিমিটেডের সিইও ফজলে শামীম এহসান জানান, ফ্রান্সের একটি ক্রেতা তাদের ক্রয় আদেশ স্থগিত করেছে; তবে স্থগিতের পরিমাণ ও বিক্ষোভের সরাসরি ভূমিকা এখনও নিশ্চিত করা বাকি।

ডিবিএল গ্রুপের এম. এ. জব্বার এবং উর্মি গ্রুপের আসিফ আশরাফ উভয়ই ইউরোপের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা রফতানিতে ক্ষতি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। স্প্যারো গ্রুপের শোভন ইসলাম যুক্তি দেন, ইউরোপের সামগ্রিক অর্থনৈতিক মন্থরতা বিক্ষোভের চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে।

সরকারি সুতা আমদানি বিধিনিষেধ

বাংলাদেশের সরকার নিট পোশাক উৎপাদনে ব্যবহৃত ১০‑৩০ কাউন্টের সুতা আমদানি করতে ব্যাংক গ্যারান্টি বাধ্যতামূলক করেছে। ফকির ফ্যাশনস লিমিটেডের ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ উল্লেখ করেন, আমদানি করা ৩০‑কাউন্টের কম্বড সুতার দাম ৩.১৫ ডলার, যেখানে দেশীয় সুতার দাম ৩.৭৫ ডলার; ফলে প্রতিটি পোশাকের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১৫ সেন্ট বাড়ে, যা ইউরোপীয় ক্রেতারা গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬‑২৭ অর্থবছরের জুলাই‑সেপ্টেম্বর সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি ৩.৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪.৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে ইউরোপীয় কমিশনের ২০২৬ সালের অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে বৃদ্ধির হার ১.১ শতাংশে নেমে যাওয়া এবং মুদ্রাস্ফীতি ৩.১ শতাংশের পূর্বাভাস রয়েছে, যা ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

সারসংক্ষেপে, ইউরোপের বিক্ষোভ, অর্থনৈতিক মন্দা, সুতা আমদানি বিধিনিষেধ এবং প্রতিযোগী দেশের রফতানি বৃদ্ধির সমন্বয় বাংলাদেশি পোশাকশিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে রফতানি বাজারের পরিবর্তন, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।