প্রথম আলো অনুসারে, বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাংলাদেশে অর্থনীতির দুইটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। উভয় প্রতিবেদনে ভবিষ্যৎ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হ্রাস এবং মুদ্রাস্ফীতির হার বৃদ্ধি পাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

আইএমএফের সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও বিশ্বব্যাপী অনেক দেশে কর্মসংস্থান টিকে আছে, আর্থিক ব্যবস্থা বড় সংকট এড়িয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি শীর্ষ থেকে নামছে, তবু বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং প্রবৃদ্ধি কমবে। প্রতিবেদনের শেষ অংশে নীতিনির্ধারকদের জন্য একক সুপারিশ হিসেবে ‘বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা’ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনগুলো উল্লেখ করেছে যে, গত সাত বছরে বাংলাদেশ কোভিড‑১৯, সরবরাহ শৃঙ্খল সংকট, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং বাণিজ্য বাধা ইত্যাদি বহুমুখী ধাক্কা সামলেছে, তবু অর্থনৈতিক কার্যকলাপ সম্পূর্ণ থেমে যায়নি। তবে ২০২২ সালের পর থেকে অর্থনীতি ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী হয়েছে, যার ফলে চার বছর ধরে দরিদ্র মানুষ ৮ লক্ষ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৬ কোটি মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেছেন, ব্যাংক খাতের ক্ষতি মোকাবিলায় আগামী ৫ থেকে ৮ বছর ধরে জনগণকে মোট ৬০,০০০ কোটি টাকা জরিমানা হিসেবে দিতে হবে। এই প্রস্তাবের প্রতি জনগণের প্রতিক্রিয়া হল, তারা জরিমানা দিতে চায় না, বরং স্বস্তি চান।

প্রবন্ধে এছাড়াও উল্লেখ করা হয়েছে, বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসা‑সহায়ক পরিবেশ, এক‑স্টপ সার্ভিস, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ‑গ্যাস সরবরাহ, আর্থিক খাতের সংস্কার ইত্যাদি প্রতিশ্রুতি ছিল, তবে বাস্তবায়নে অগ্রগতি কম। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর অর্থনৈতিক পতন থামাতে এবং সংস্কার বাস্তবায়নে চাপ রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী ও ব্যাংক গভর্নর বর্তমানে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন, যেখানে দাতা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে।

এই সব তথ্য প্রথম আলো অনুসারে সংকলিত।