আইইউটির ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত
বর্তমান সরকার উচ্চতর ডিগ্রিধারী তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম পরিচালনা ও গবেষণার জন্য বাজেট বাড়ানোর কথাও জানান তিনি। রোববার (১১ অক্টোবর) গাজীপুরের বোর্ডবাজারে অবস্থিত ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ওআইসির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আইইউটির এই সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজ সভাপতিত্ব করেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে ওআইসির ১৬টি সদস্য দেশের মোট ৬৫৯ জন গ্র্যাজুয়েটকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ১৫৫ জন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১৪৯ জন, মেকানিক্যাল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১৪৭ জন, সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১২৬ জন, বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি ম্যানেজমেন্টে ৫৭ জন এবং টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন বিভাগে ২৫ জন ডিগ্রি অর্জন করেন।
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের তাগিদ
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের এমন মানবসম্পদ প্রয়োজন, যারা দেশের বাস্তবতা ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে পারবেন এবং নিজেদের উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে বিভিন্ন সমস্যার কার্যকর সমাধান তৈরি করতে সক্ষম হবেন। তিনি আরও বলেন, যারা ব্যয়বহুল প্রযুক্তি বা সমাধানের খরচ বহন করতে পারেন না, তাদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের এই যুগে নতুন সম্ভাবনা তৈরিকরণের পাশাপাশি এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের নতুন প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহারে দক্ষ করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। আন্তর্জাতিক বাজারে এআই নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রেও সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. মো. কায়কোবাদ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য ড. হোসেন আরাবি নূরসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট অতিথি, কূটনীতিক, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা গ্র্যাজুয়েটদের সততা বজায় রাখা, আজীবন শেখার মানসিকতা ধারণ করা এবং অর্জিত জ্ঞান সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।
পদক প্রদান ও ওআইসির প্রতি কৃতজ্ঞতা
আইইউটির আন্তর্জাতিক পরিবেশের প্রশংসা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে আমরা গর্বিত। বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে এখানে আসেন এবং শিক্ষা অর্জনের জন্য একটি অভিন্ন ক্ষেত্র পান। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতি অব্যাহত সমর্থনের জন্য ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং এর সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অসাধারণ একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে সাতজন শিক্ষার্থীকে গোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়। এর মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আহমেদ রানী মর্যাদাপূর্ণ ‘ওআইসি গোল্ড মেডেল’ অর্জন করেন। এ ছাড়া অন্য ছয়জন শিক্ষার্থী—আশফাক সিরাজ শুভ, মুহাম্মদ সাফায়াত জামিল, খালিদ হাসান আদর, আদিবা জাহীন, ফারহান লবিব ও তাসফিয়া মাহমুদকে ‘আইইউটি গোল্ড মেডেল’ দেওয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রী পদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের গলায় পদক পরিয়ে দেন এবং তাদের হাতে সনদ তুলে দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি গ্র্যাজুয়েটদের অভিনন্দন জানান এবং কৌতূহলী মনোভাব বজায় রেখে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বাংলাদেশ এবং বৃহত্তর মুসলিম উম্মাহর সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।




