টাঙ্গাইল শহরের ক্যাপসুল মার্কেট এলাকায় গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে সাড়ে ৬ বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণ করার এবং বাধা দেওয়ায় ইট দিয়ে মুখ ও নাকে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে বিপ্লব নামের একটি যুবকের বিরুদ্ধে। ঢাকা ট্রিবিউন বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুটি বর্তমানে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার বিবরণ
শিশুটির মা জানান, তিনি ক্যাপসুল মার্কেট এলাকার একটি পার্লারে কাজ করেন। অভিযুক্ত বিপ্লব তাদের পার্লারে যাওয়া-আসা করতেন। শুক্রবার বিকেলে মেয়েটি তার কাছ থেকে নিচে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে বিপ্লব তিনটি চিপস নিয়ে আসেন। মেয়ের কথা জানতে চাইলে তিনি টালবাহানা করেন। রাতে একটি রিকশাচালক শিশুটিকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
শিশুটি জানিয়েছে, বিপ্লব তার সঙ্গে অপরাধ করেছেন এবং বাধা দেওয়ায় ইট দিয়ে মুখ ও নাকে আঘাত করেছেন। শিশুটি কষ্টে আছে এবং অভিযুক্তের শাস্তি চাইছেন।
চিকিৎসকদের মতামত
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক আল আমিন সিদ্দিকী ঢাকা ট্রিবিউন বাংলাকে বলেন, "প্রাথমিকভাবে মেডিকেল টিমের সদস্যরা যেসব আলামত পেয়েছেন, তাতে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা যায়। এছাড়া শিশুটির নাক ফেটে গেছে এবং ঠোঁটে একাধিক সেলাই দেওয়া হয়েছে।"
পুলিশের দাবি
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
প্রতিমন্ত্রীর হাসপাতাল দৌড়
ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু শনিবার (৩১ অক্টোবর) গভীর রাত ১২টার দিকে ঢাকা থেকে সরাসরি হাসপাতালে এসে শিশুটির চিকিৎসা বিষয়ক খোঁজখবর নেন। তিনি শিশুটির উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন এবং চিকিৎসার সকল ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেন। প্রযোজনে শিশুটিকে ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথাও বলেন তিনি। পাশাপাশি অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে কাজ করছে। তিনি অভিযুক্তকে মাদকাসক্ত বলে অভিহিত করেন এবং টাঙ্গাইলকে মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।
প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি
হাসপাতালে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু হানিফ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া সহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির স্থানীয় নেতাগণও উপস্থিত ছিলেন।
মায়ের দাবি
শিশুটির মা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। চ্যানেল ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুটি গুরুতর আহত অবস্থায় সার্জারি ওয়ার্ডের বেডে যন্ত্রণায় কাটাচ্ছে।






