ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা অনুযায়ী, রোড সেফটি ফাউন্ডেশন (আরএসএফ) ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণকৃত সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৩৮৬ জন, অটোরিকশা দুর্ঘটনায় ১,৭২৮ জন, মাইক্রোবাসে ৭০৮ জন, ব্যক্তিগত গাড়িতে ৩৫২ জন, অ্যাম্বুলেন্সে ১৬২ জন এবং বাসে ৮৫ জন প্রাণ হারিয়েছে।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৯৩টি ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে নিহত হয়েছে, বাবা ও সন্তান জড়িত ১৫৯টি দুর্ঘটনায় ৩১৮ জন মারা গেছে।

অটোরিকশা দুর্ঘটনায় ৫২৫টি ক্ষেত্রে একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ২১১টি দুর্ঘটনায় দুজন, ১১৮টিতে তিনজন, ৯২টিতে চারজন, ৫৩টিতে পাঁচজন, ৩৮টিতে ছয়জন এবং ১৩টিতে সাতজন সদস্য নিহত হয়েছে।

মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ১৮৬টি ক্ষেত্রে একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৪৮টি দুর্ঘটনায় দুজন, ৪৬টিতে তিনজন, ৩৯টিতে চারজন, ২৮টিতে পাঁচজন, ২০টিতে ছয়জন, ৪টিতে ১১ জন এবং ১টিতে ১৪ জন সদস্য নিহত হয়েছে।

ব্যক্তিগত গাড়ির ১০৮টি দুর্ঘটনায় ৩৫২ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৩৪টি দুর্ঘটনায় দুজন, ৩১টিতে তিনজন, ২৪টিতে চারজন এবং ১৯টিতে পাঁচজন সদস্য নিহত হয়েছে।

অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় ৪৫টি ক্ষেত্রে ১৬২ জন প্রাণ হারিয়েছে, যার মধ্যে ১১টি দুর্ঘটনায় দুজন, ১৫টিতে তিনজন, ৯টিতে চারজন, ৭টিতে পাঁচজন এবং ৩টিতে আটজন সদস্য নিহত হয়েছে।

বাস দুর্ঘটনায় ৩২টি ক্ষেত্রে ৮৫ জন সদস্য নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ১৭টি দুর্ঘটনায় দুজন, ৯টিতে তিনজন এবং ৬টিতে চারজন নিহত হয়েছে।

একটি দুর্ঘটনায় পিকআপ ভ্যান উল্টে গেলে একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছে।

আরএসএফ দুর্ঘটনার পেছনে কাজ ও অবসরের জন্য পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে যাতায়াতের প্রবণতা, মহাসড়কে অটোরিকশার চলাচল, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের ফিটনেস না থাকা, চালকদের অদক্ষতা ও ক্লান্তি, হেলমেট না পরা, বেপরোয়া চালনা এবং ট্রাফিক আইন না মানা ইত্যাদি কারণ চিহ্নিত করেছে।

প্রতিবেদনটি মোটরসাইকেল চালকদের উন্নত মানের হেলমেট ব্যবহার, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং মহাসড়কে রোড ডিভাইডার ও সার্ভিস রোড নির্মাণের সুপারিশ করেছে।

এছাড়াও গ্রামীণ সড়ক যাতে সরাসরি মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত না হয়, নিরাপদ সড়ক নকশা প্রণয়ন, সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহনের ওপর কঠোর নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সড়ক ব্যবহারকারীদের ট্রাফিক নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার সক্ষমতা বাড়াতে শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনারও সুপারিশ করেছে আরএসএফ।

বাংলা ট্রিবিউন এবং অন্যান্য মিডিয়া একই তথ্য রিপোর্ট করেছে।