বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পিরোজপুর সদর উপজেলা কমান্ড মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার অন্যতম সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর গার্ড অব অনার প্রদান ও দাফনে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় পিরোজপুর পৌর শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আহমেদ শহিদুল হক, সাবেক আর্মি সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার বীর মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক সোলাইমান মল্লিক, জেলা কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য রাজ্জাক সরদার ও আব্দুল মান্নান ধরানী। এ ছাড়া সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান আহমেদ, সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী সরদারসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাঁর গার্ড অব অনার ও দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। বক্তারা আরও বলেন, মানিক পশারী একজন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে কারও কোনো আপত্তি থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অভিযোগের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত। এ ধরনের ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা জানান, মানিক পশারীর মরদেহ পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয় এবং সেখানে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে শনিবার রাত দেড়টার দিকে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। মানিক পশারীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তাঁদের হুমকি দিয়ে বলা হয় যে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হবে, মরদেহ আটকে রাখা হবে এবং পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে আসতে দেওয়া হবে না।

মানিক পশারী মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার অন্যতম সাক্ষী ছিলেন এবং সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়। ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট রাতে কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জামাতার বাড়িতে ছিলেন। দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর গত শনিবার সকাল ১০টার দিকে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

মানববন্ধনে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আহমেদ শহিদুল হক বলেন, মানিক পশারীর মরদেহ যেদিন পিরোজপুরে আনা হয়, সেদিন তিনি পুষ্পমাল্য নিয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে যান। সেখানে একদল লোক জড়ো হয়ে তাঁর হাত থেকে পুষ্পমাল্য কেড়ে নেয় এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি করে যে তাঁরা চলে আসতে বাধ্য হন। পরে বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয় এবং মানিক পশারীর মরদেহ পুলিশ লাইনসের ভেতরে নেওয়া হয়।

এ ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুই ব্যক্তি বক্তব্য দেন। একজন হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন; অন্যজন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা নন বলে দাবি করেন মির্জা জহিরুল হক। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বক্তারা বলেন, মির্জা জহিরুল হক কীভাবে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন, তা তাদের বোধগম্য নয়।

মানববন্ধন থেকে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর গার্ড অব অনার ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের যথাযথ তদন্ত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।