বার্তা২৪ অনুসারে, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কর্তৃক প্রদান করা গোর-এ-শহীদ বড়মাঠকে জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি স্থানীয় কর্মী ও সংগঠনগুলো পুনরায় তুলে ধরেছে। তারা যদি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই দাবি পূরণ না হয়, তবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের সতর্কতা জানিয়েছে।
প্রদর্শনের বিবরণ
প্রথম আলো রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বুধবার সকাল ১১ টার দিকে জেলা প্রশাসকের অফিসের সামনের সড়কে ‘বড় মাঠ রক্ষা কমিটি’ ব্যানারের অধীনে মানববন্ধন এবং রেলপথে অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন বয়সের খেলোয়াড়, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতা‑কর্মীসহ প্রায় এক হাজার নারী‑পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
প্রথম আলো অনুসারে, মানববন্ধনের সভাপতিত্ব করেন রেহাতুল ইসলাম (সাবেক কাউন্সিলর) এবং কমিটির নেতা হিসেবে গোলাম নবী দুলাল উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সৈয়দ মোসাদ্দেক হোসেন (সাবেক চেয়ারম্যান), জেলা বিএনপির সহসভাপতি খালেকুজ্জামান ও আকতারুজ্জামান জুয়েল, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মেহেরুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, জেলা নাট্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রহমান এবং জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য স্বাধীন সরকার প্রমুখ বক্তৃতা দিয়েছেন।
ব্যানারে ‘ধর্ম, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে ভরপুর গোর-এ-শহীদ বড় মাঠ দিনাজপুরবাসীকে ফিরিয়ে দাও’, ‘এই মাঠ খেলাধুলা ও সবার জন্য উন্মুক্ত চাই’, ‘আমি কিশোর, আমি বড় মাঠে খেলতে চাই’ এবং ‘ক্রিকেট খেলার মাঠ অবিলম্বে অবমুক্ত করতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দেখা গিয়েছে।
মাঠের বর্তমান অবস্থা ও ঐতিহাসিক পটভূমি
প্রথম আলো ও বাংলা ট্রিবিউন উভয়ই জানায় যে, প্রায় এক বছর ধরে গোর-এ-শহীদ বড়মাঠে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে; এতে খেলাধুলা, উৎসব, বাণিজ্য মেলা, বিজ্ঞান মেলা, রাজনৈতিক সমাবেশ ও ওয়াজ মাহফিলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত। প্রতিবাদকারীরা উল্লেখ করেন যে, এই মাঠটি স্থানীয় মানুষের জন্য কেবল খেলাধুলার স্থান নয়, বরং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বাংলা ট্রিবিউন অনুসারে, আন্দোলনকারীরা রেলপথে অবস্থান করে অতিরিক্ত চাপে দাবি জোরদার করেন এবং একই সঙ্গে ১৫ দিনের মধ্যে না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।
বার্তা২৪ এবং অন্যান্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গোর-এ-শহীদ বড়মাঠের মালিকানা যাকে হোক না কেন, সেখানে খেলাধুলা বন্ধ করা উচিত নয়, এবং মাঠটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখা উচিত।






