বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) উচ্চশিক্ষার সুযোগের বৈষম্য কমাতে আলাদা স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল চালুর পরিকল্পনা করেছে, তা দেশ রূপান্তর অনুসারে জানানো হয়েছে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শিক্ষার সুযোগ ও একাডেমিক কার্যক্রমে বৈষম্য রয়েছে; কিছু বিশ্ববিদ্যালয় শহরে, অন্যগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত। এই পার্থক্য কমাতে উচ্চশিক্ষার জন্য আলাদা টেলিভিশন চ্যানেল চালু করা হবে এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান প্রযুক্তিগত সুবিধা ব্যবহার করে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করা হবে।
অধিকন্তু, ইউজিসি দুই বছরের মধ্যে প্রায় ১৮০টি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে। এতে উচ্চগতির ইন্টারনেট, ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ ও ডিজিটাল ক্যাম্পাসের সুবিধা গড়ে তোলা হবে, যা একাডেমিক যোগাযোগ, যৌথ গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াবে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শিক্ষক ও গবেষকদেরও দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে।
চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ এআই, ডেটা সায়েন্স ও অনলাইন প্রযুক্তির বিকাশের ফলে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করে, দক্ষতা-ভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঘরে বসেই মানুষ শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন; তাই উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পদ্ধতি ও অবকাঠামোকে যুগোপযোগী করতে ইউজিসি ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় তিন লাখ; সঠিকভাবে মানসম্মত ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, তিনি যোগ করেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান খান, এবং মুখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী। অন্যান্য উপস্থিতির মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
এই তথ্য আজকের পত্রিকা ও বার্তা২৪ সহ অন্যান্য মিডিয়ায়ও প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান প্রযুক্তিগত সুবিধা ব্যবহার করে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।






