দেশ রূপান্তর অনুসারে, টঙ্গী ৯০ মেগা‑ওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ভোলায় স্থানান্তর করার পরিকল্পনা সরকার অনুমোদন করেছে এবং চলতি বছরের মধ্যে স্থানান্তরের কাজ শুরু হবে।

পিডিবি পরিকল্পনা ও বর্তমান অবস্থা

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) নিশ্চিত করেছে যে টঙ্গী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দীর্ঘ দশ বছর উৎপাদনে না থাকায় ভোলায় সরানো হবে। কেন্দ্রটি গ্যাসের ঘাটতি ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে এবং পূর্বে গ্যাসের অল্পতা ও রাজনৈতিক বিতর্কের শিকার ছিল।

পিডিবি সূত্রে বলা হয়েছে, টঙ্গী কেন্দ্রের উৎপাদন খরচ প্রথমে ১ টাকা ৭৬ পয়সা থেকে ৩ টাকা ২ পয়সা পর্যন্ত ছিল, তবে বর্তমানে গড়ে ১২ টাকার কাছাকাছি। ২০০৭‑০৮ অর্থবছরে কেন্দ্রটি ৩৫৮.৭১ মিলিয়ন কিলোওয়াট‑ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, পরবর্তী বছরগুলোতে উৎপাদন ও ইউনিট খরচের পরিবর্তন ঘটেছে; ২০১৮‑১৯ অর্থবছরে ২১.৫৩ মিলিয়ন কিলোওয়াট‑ঘণ্টা উৎপাদন করে প্রতি ইউনিটে ১৬ টাকা ১৩ পয়সা খরচ হয়েছে।

পিডিবি কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, কেন্দ্রটি রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তা মেরামত করা হয়নি এবং এটি একটি ‘পলিটিক্যাল কেন্দ্র’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

পিডিবির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম জানান, ভোলায় স্থানান্তরের কারণ গ্যাসের ঘাটতি ও যান্ত্রিক সমস্যার সমাধান না হওয়া, যদিও বিদেশি বিশেষজ্ঞ দল না আসার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী সরকারগুলোর সময় টঙ্গী কেন্দ্রের নির্মাণ চারদলীয় জোটের অধীনে করা হয়েছিল; সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রী ও বিদ্যুৎমন্ত্রী একাধিকবার এই কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করে বলেছেন যে বিরোধী জোটের সময় অন্য কোনো কেন্দ্র নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক ও সাবেক মহাপরিচালক বি.ডি. রহমত উল্লাহের মন্তব্যে বলা হয়েছে, দেশের বিদ্যুৎখাতের বড় সংকটের মূল কারণ হল নির্মিত কেন্দ্রগুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না করা।

এই তথ্য দেশ রূপান্তর অনুসারে সংগ্রহ করা হয়েছে।