ভোলা জেলার বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ থাকা সত্ত্বেও গ্যাসভিত্তিক শিল্পের উন্নয়ন ধীরগতিতে চলছে, দেশ রূপান্তর অনুসারে। ১৯৯৫ সালে বোরহানউদ্দিন উপজেলায় শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের পর ২০০৯ সালে বাণিজ্যিক উত্তোলন শুরু হয়, এবং ২০১৮ ও ২০২৩ সালে ভোলা নর্থ ও ইলিশা-১ গ্যাসক্ষেত্রও পাওয়া গেছে। তবে এই সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করে বৃহৎ শিল্পায়নের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।
গত সরকারের সময়ে সারকারখানা, অর্থনৈতিক অঞ্চল, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) ও এলএনজি স্থাপনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবায়ন সীমিত রইল। স্থানীয় উদ্যোক্তা ও বাসিন্দারা উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগের আগ্রহ থাকলেও প্রকল্পগুলো শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর নতুন আশা
২৯ জুন জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভোলায় শিল্পপার্ক স্থাপনের ঘোষণা দেন। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর তিনি গ্যাস ব্যবহার করে সারকারখানা ও ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিকল্পনা উল্লেখ করেন। গ্যাস মূল ভূখণ্ডে পাইপলাইনের মাধ্যমে পৌঁছাতে প্রায় সাত বছর সময় লাগতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ভোলা শাখার সভাপতি মো. সোলাইমান বলেন, ভোলায় শিল্পকারখানা গড়ার উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে, তবে অতীতের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। স্থানীয় কলেজ শিক্ষক মো. জুয়েল এবং ভোলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর গ্যাসভিত্তিক শিল্পের সম্ভাবনা ও ব্যয় (প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি টাকা) উল্লেখ করেন।
জেলা প্রশাসক ডা. শামিম রহমান গ্যাসভিত্তিক উন্নয়নের দীর্ঘদিনের দাবি স্বীকার করে, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা জানান। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা এখন বাস্তব উদ্যোগ ও দৃশ্যমান অগ্রগতি চাচ্ছেন, শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি নয়।
এই তথ্য দেশ রূপান্তর অনুসারে।






