প্রথম আলো অনুযায়ী, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) দামের দ্রুত বৃদ্ধি ঢাকা শহরের নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে মাটির চুলায় লাকড়ি, চেলা কাঠ ও কাগজ পুড়িয়ে খাবার রান্না করতে বাধ্য করছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নভেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য ২,০৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে, যদিও বাজারে তা ২,৩০০ থেকে ২,৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়। গত মার্চে একই সিলিন্ডারের দাম ১,৩৪১ টাকা, বাজারে প্রায় দেড় হাজার টাকার আশেপাশে ছিল।

শেরেবাংলা নগর থানা এলাকার তামান্না (৩২), যিনি স্বামী ও দুই সন্তানসহ একটি ছোট দোকান চালান, গ্যাসের দাম বেশি হওয়ায় লাকড়ি (প্রতি কেজি ১৫ টাকা, মণ ৬০০ টাকা) জ্বালিয়ে মাটির চুলায় খাবার রান্না করছেন। তার স্বামী মনির হোসেন বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় আয় কমে গেছে।

আগারগাঁওয়ের আরেক বাসিন্দা রহিমা (৫০) একই সমস্যার মুখোমুখি। তিনি মাসে দুই সিলিন্ডার গ্যাসের খরচ প্রায় পাঁচ হাজার টাকা, যা তার সামর্থ্যের বাইরে। তাই তিনি লাকড়ি চুলায় রান্না করছেন, যদিও এতে ধোঁয়া ও কালি সমস্যা বাড়ছে।

শহরের বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ না থাকায় তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মাসিক বিল দুই চুলায় ১,৮০ টাকা, আর পাঁচজনের পরিবারে দুই সিলিন্ডার গ্যাসের মাসিক খরচ প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। লাকড়ির দামও বাড়ছে; বিক্রেতারা জানান প্রতি মণ ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং বর্তমানে ৪০০‑৬০০ টাকায় বিক্রি হয়।

এই পরিস্থিতি গ্যাসের দামের দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির ফলে দরিদ্র পরিবারের দৈনন্দিন জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে, যা প্রথম আলো প্রতিবেদন করেছে।