জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ত্রাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানা, দেশ রূপান্তর অনুসারে, ১৬ দিন বন্ধ থাকার পর ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) সকাল ১০ টা থেকে ইউরিয়া উৎপাদন পুনরায় শুরু করেছে। কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন শুক্রবার দুপুরে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

কারখানাটি গ্যাস সংকটের কারণে আট মাস বন্ধ ছিল। দেশ রূপান্তর জানায়, গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ার পর ৬ অক্টোবর উৎপাদন শুরু হয়, তবে ৮ অক্টোবর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আবার বন্ধ হয়ে যায়। মেরামতের পর ১৬ দিন পরে, অর্থাৎ ২৩ অক্টোবর, উৎপাদন পুনরায় চালু হয়। অন্যদিকে, ঢাকা টাইমস রিপোর্টে বলা হয়েছে যে গ্যাস সরবরাহ ২০ সেপ্টেম্বর তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড থেকে পুনরায় শুরু হয় এবং উৎপাদন ৭ অক্টোবর রাতে শুরু হয়, কিন্তু ৯ অক্টোবর বয়লারে লিকেজের কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এই দুই সূত্রের মধ্যে উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ার তারিখ ও বন্ধের সময়সীমা সম্পর্কে পার্থক্য রয়েছে।

যমুনা সার কারখানা ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং দৈনিক ১,৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের ক্ষমতা রাখে, দেশ রূপান্তর অনুযায়ী। কারখানাটি স্বাভাবিকভাবে কাজ করলে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চলের ১৯ জেলায় সার সরবরাহ করতে পারে। তবে ঢাকা টাইমস উল্লেখ করে যে কারখানা ২১টি জেলায়, যার মধ্যে রাজবাড়ীও অন্তর্ভুক্ত, সরবরাহ করে। প্রতিষ্ঠার বছর সম্পর্কেও ঢাকা টাইমসের মতে কারখানা ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত, কিন্তু বাণিজ্যিক উৎপাদন ১৯৯১ থেকে শুরু হয়।

ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা অনুসারে, যমুনা সার কারখানা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। কারখানার উপপ্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) মো. ফজলুল হক জানান, প্রকৌশলীরা দুই দিনের মধ্যে বয়লারের ত্রুটি সম্পূর্ণভাবে মেরামত করে উৎপাদন পুনরায় চালু করতে সক্ষম হয়েছেন। দেলোয়ার হোসেনের মন্তব্যের সঙ্গে এই তথ্যগুলোকে কৃষি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

উৎপাদন অব্যাহত থাকলে কৃষকদের সার সরবরাহের পরিস্থিতি উন্নত হবে এবং সার সংকট কমে আসবে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত দেশ রূপান্তর ও অন্যান্য সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।