বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে জানা যায়, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আয়ের তুলনায় বেশি হারে বাড়ছে। এর ফলে খাবার, বাসাভাড়া, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও চিকিৎসার খরচ মিটিয়ে পোশাক বা শৌখিন পণ্য কেনার মতো অর্থ অনেকের হাতে থাকছে না। প্রয়োজন ছাড়া কেনাকাটা বন্ধ বা কমিয়ে দেওয়ায় সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের খুচরা বাজারে।

রাজধানীর বিভিন্ন শপিং মল ও বিপণিবিতানের ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে বাংলা ট্রিবিউন জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় কোনো কোনো দোকানে বিক্রি ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ক্রেতাসংকট ও লোকসানের মুখে অনেক স্থানে কর্মচারী ছাঁটাই করা হয়েছে এবং দীর্ঘদিন পরিচালন ব্যয় মেটাতে না পেরে গত ১ অক্টোবর থেকে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি। বনানী, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্র্যান্ডের পোশাকের দোকানে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশে, বিপরীতে মজুরি বৃদ্ধির হার কমে হয়েছে ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। ফলে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাও কমিয়ে দিয়েছে, যা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ব্যয় না বাড়ায় মানুষ কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ রাখার নিয়মের কারণেও ব্যবসায়ীরা বিক্রির সুযোগ হারাচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের সুরক্ষায় সহজ শর্তে ঋণ, সরকারি প্রণোদনা এবং বড় বিপণিবিতানগুলো রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।