ইত্তেফাকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উল্লেখ করেন, ইরানের কাছে থাকা ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সঠিক অবস্থান এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ব্রিফিং

গ্রোসি জানান, আইএইএর সুরক্ষা চুক্তির আওতায় থাকা কোনো পারমাণবিক উপাদান অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কিনা তা সংস্থা এখনো যাচাই করতে পারেনি। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণের পর পরিদর্শকরা ইরান ছাড়তে বাধ্য হন, ফলে এক বছরেরও বেশি সময়ে কোনো পরিদর্শন সম্ভব হয়নি।

গত মাসে আইএইএর পরিচালনা পর্ষদ ইরানের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব পাস করে নিরাপত্তা পরিষদে পাঠায়; ১৫ সদস্যের পরিষদে গ্রোসি প্রথমবারের মতো ব্রিফিং দেন। প্রস্তাবটি ৯ সেপ্টেম্বর ভোটে ২৩টি দেশ সমর্থন, তিনটি বিরোধ, আটটি বিরত থাকে। তেহরান এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বেআইনি বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

গ্রোসি উল্লেখ করেন, ওমান, পাকিস্তান, কাতার ও মিসরের উদ্যোগে কায়রো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা পারমাণবিক যাচাই কাজ পুনরায় চালু করার সম্ভাবনা তৈরি করে। চুক্তিতে ফোরদো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, নাতাঞ্জের প্রধান সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, ইসফাহান কমপ্লেক্সের কিছু স্থাপনা এবং খোন্দাবের ভারী পানি গবেষণা চুল্লি অন্তর্ভুক্ত।

বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আইএইএর পরিদর্শকরা বর্তমানে কাজ করছেন এবং পরবর্তী বছর শুরুর দিকে জ্বালানি স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, ইসফাহান জ্বালানি সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের পরিদর্শনের অনুমতি তেহরান এখনও প্রত্যাখ্যান করেছে।

গ্রোসি জোর দিয়ে বলেন, পারমাণবিক নিরাপত্তা ও হিসাব যাচাই ছাড়া কোনো সমঝোতা টেকসই হবে না এবং ইরানের নিরাপত্তা উদ্বেগ বিবেচনা করে ধাপে ধাপে কারিগরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এই তথ্য ইত্তেফাকের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া হয়েছে।