আজকের পত্রিকা জানাচ্ছে যে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন সংঘাতের সম্ভাবনা বিবেচনা করে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে। গত তিন মাসে গোষ্ঠীটি অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহ, পাশাপাশি ড্রোন উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, যা ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবহার করা হবে।

দুটি লেবানিজ নিরাপত্তা সূত্রের মতে, হিজবুল্লাহ ইরান থেকে কয়েক কোটি ডলার এবং শিয়া সমর্থক পরিবারগুলোর সহায়তায় তেহরান থেকে প্রায় ২০ কোটি ডলার পেয়েছে। এই আর্থিক সহায়তা সম্পর্কে রোয়টার্সের সঙ্গে লেবানিজ সূত্রের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

হিজবুল্লাহ ১৯৮২ সালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২৪ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে দুই দফা যুদ্ধের পর গোষ্ঠীটি বড় ক্ষতির মুখে পড়ে; হাজারো যোদ্ধা ও বহু নেতা নিহত হয়েছে এবং বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস হয়েছে। বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের কিছু গ্রাম দখল করেছে, যেখানে হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি অবস্থিত।

হিজবুল্লাহর মিডিয়া দপ্তর দাবি করে যে, লেবাননের ভূখণ্ড ইসরায়েল দখল করেছে এবং এই দখলকে প্রতিরোধ করা তাদের বৈধ অধিকার। তবে গোষ্ঠীর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো ভেঙে যাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য পদক্ষেপের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের মুখপাত্রের মতে, ইরানের অর্থ ও অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ পূর্বের তুলনায় কমে এসেছে।

ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর আক্রমণ চালানোর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে; এই সময়ে হিজবুল্লাহ তার প্রস্তুতি বাড়িয়ে চলেছে। ২০২৬ সালের ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে ইসরায়েলে আক্রমণ চালায়, যার ফলে ৪,০০০‑এর বেশি মানুষ নিহত এবং লেবাননের প্রায় এক-চতুর্থাংশ জনগণ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পরবর্তীতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মধ্যবর্তী চুক্তির ফলে লেবাননে যুদ্ধবিরতি হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। যদিও চুক্তি ভেঙে যায়, লেবাননে বড় সংঘাত পুনরায় শুরু হয়নি, তবে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।

হিজবুল্লাহ এখনও সম্পূর্ণভাবে তার অস্ত্রভাণ্ডার ও যোদ্ধাদের প্রস্তুত করতে পারেনি; নিরাপত্তা সূত্রের মতে, বর্তমান মাসে লেবানিজ সরকার হিজবুল্লাহর বড় পরিমাণ বিস্ফোরক জব্দ করেছে, যা গোষ্ঠী স্বীকার করেছে যে ইসরায়েলে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত ছিল। গোষ্ঠীর এক কর্মকর্তা ও লেবানিজ নিরাপত্তা সূত্র রোয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, এই বিস্ফোরকগুলো মূলত হামলাকারী ড্রোনে ব্যবহার করা হবে।

হিজবুল্লাহ ছোট ছোট ইউনিটে ভাগ হয়ে বিন্ত জবেইল শহর ও আলি আল-তাহের পর্বতশ্রেণির মতো কৌশলগত এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে। অ্যান্টি-ট্যাংক রকেটের ব্যবহার সীমিত রাখার ফলে কিছু ইউনিট বিচ্ছিন্ন হয়ে ইসরায়েলের দূরনিয়ন্ত্রিত অস্ত্রব্যবস্থার মুখোমুখি হচ্ছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলছে, তারা দূরনিয়ন্ত্রিত ড্রোন ও অস্ত্রবাহী যান ব্যবহার করে পর্যবেক্ষণ ও ঝুঁকি কমাচ্ছে।

হিজবুল্লাহ নতুন সংঘাত শুরু হলে সরাসরি অংশ নেবে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়; তবে গোষ্ঠীর মিডিয়া দপ্তর বলছে, ইসরায়েলি নেতাদের কোনো অজুহাত না দিয়ে লেবাননে সংঘাত বাড়াতে তারা প্রস্তুত।

প্রথম আলো অনুসারে, ইরানের কট্টরপন্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছে এবং মক্কা চুক্তির অন্তর্ভুক্ত দেশ সৌদি আরব, তুর্কি ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা তেহরানে আঞ্চলিক সমন্বয় নিয়ে বৈঠক করার পরিকল্পনা করেছে। এই তথ্যগুলোও আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যদিও উভয় সূত্রে কিছু সংখ্যাগত ও নামগত পার্থক্য রয়েছে।