প্রথম আলো অনুসারে, যশোরের ঝিকরগাছা থেকে ২ মাস ২৭ দিনের নবজাতক আয়মান সাদিককে মা সানজিদা খাতুন টানা ১৬ দিন বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে রাখলেও অবস্থার উন্নতি না পেয়ে, তিনি ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ভর্তি করান। চিকিৎসার পর সামান্য উন্নতি হলেও কাশি ও শ্বাসকষ্ট এখনও রয়ে গেছে।

একইভাবে, নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জাহাজমারা এলাকা থেকে দুই বছরের মেয়ে হামিদাকে মা নুরজাহান বেগম টানা ১৫‑২০ দিন জ্বর ও ফুসকুড়ি, ম্যালেরিয়া সনাক্ত হওয়া সত্ত্বেও তীব্র শ্বাসকষ্টে ঢাকা নিয়ে যান। তিনি জানান, হাসপাতালে প্রথমে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পেতে ভোগান্তি ভোগ করতে হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জের সাত মাসের রাইজানের ক্ষেত্রেও নিউমোনিয়ার পর হ্যাম শনাক্ত হয়; টানা সাত দিন আইসিইউতে থাকা সত্ত্বেও শ্বাসকষ্ট সম্পূর্ণ দূর হয়নি।

হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম জানান, রোগের মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রধান কারণ হল চিকিৎসা শুরুতে দেরি এবং হ্যাম সঠিকভাবে শনাক্ত না হওয়া। তিনি যোগ করেন, হ্যামের সবচেয়ে বড় জটিলতা নিউমোনিয়া, যার সঙ্গে অপুষ্টি যুক্ত। হাসপাতালে ভর্তি শিশুর প্রায় ৯০ % অপুষ্টিতে ভুগছে।

মেডিক্যাল অফিসার মার্জিয়া আফরোজ উল্লেখ করেন, নবজাতক থেকে দুই বছর বয়সের শিশুরা হ্যামে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে, বিশেষ করে যারা নিয়মিত টিকা পায়নি। হ্যামের সঙ্গে ডায়রিয়া, বমি, খিঁচুনি বা নিউমোনিয়া দেখা দিলে সাধারণ অক্সিজেন যথেষ্ট নয়; আইসিইউ ও ভেন্টিলেশন প্রয়োজন হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হ্যাম‑সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিশু চিকিৎসা পেয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৯৭‑৯৮টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ৯৭টি শিশু চিকিৎসাধীন, এবং সোমবারই নতুন করে ২৫ জন ভর্তি হয়েছে।

হাসপাতালের মোট শয্যা ৭০০টি হলেও আইসিইউ শয্যা মাত্র ১৪টি, ফলে জটিল রোগীদের আইসিইউ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এছাড়া জনবলের ঘাটতি রয়েছে; ডা. মার্জিয়া আফরোজ বলেন, রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসক ও নার্সের অনুপাত কমে যাচ্ছে। পরিচালক জানান, বর্তমানে প্রায় ৩০০ চিকিৎসক কর্মরত এবং আগামী মাসের মধ্যেই অতিরিক্ত ৫০জন চিকিৎসক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, শিশুরা যেন জটিল অবস্থায় না পৌঁছায়, তা জন্য নির্ধারিত সময়ে টিকা নিশ্চিত করা এবং জ্বর, কাশি, ফুসকুড়ি ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন। শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, বারবার বমি বা ডায়রিয়া মতো ‘বিপৎসংকেত’ দেখা দিলে অবিলম্বে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।