ডেঙ্গু রোগের পুনরাবৃত্তি ও চিকিৎসা ব্যয়ের পরও বাংলাদেশে টিকাভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ ব্যবস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ২০২৪ সালের মে মাসে উচ্চ সংক্রমণ প্রবণ এলাকায় ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সের শিশু-কিশোরদের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে টিকাটি ব্যবহার করার প্রাক্‑সুপারিশ দিয়েছে। টিকাটির দুই ডোজের মধ্যে তিন মাসের ব্যবধান রাখতে হবে এবং এটি সব ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধ করতে পারে না।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে গণটিকাদানের কোনো পরিকল্পনা নেই। ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে টিকার নিরাপত্তা, কার্যকারিতা এবং দেশে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার প্রমাণ, স্থানীয় ফলাফল মূল্যায়ন এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ছাড়া বৃহৎ পরিসরে টিকাদান চালু করতে চায় না।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ভ্যাকসিনের পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং মশা ঘনত্ব পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখা জরুরি। সিটি কর্পোরেশন, স্থানীয় প্রশাসন এবং নাগরিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া রোগের বিস্তার রোধ করা কঠিন।

টিকার মূল্য ও প্রাপ্যতা সম্পর্কেও উদ্বেগ রয়েছে; অনুমোদিত হলে টিকাটি যদি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে থাকে, তবে জনস্বাস্থ্যের সুফল সীমিত হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন WHO ও ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা, দেশীয় ওষুধ শিল্পের সক্ষমতা ব্যবহার করে ভবিষ্যতে টিকা উৎপাদনের সম্ভাবনা বিবেচনা করা যেতে পারে।

এই বিশ্লেষণ দেশ রূপান্তর অনুসারে প্রস্তুত করা হয়েছে।