একাত্তর টিভি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের টোকিও সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ এবং বহুমুখী আর্থিক সহায়তা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই সহায়তা প্যাকেজে বাজেট সহায়তা, জাতীয় অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রাধান্য পাবে।

সফরে দুই দেশের মধ্যে কমপক্ষে ৫ থেকে ৮টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে, যার মধ্যে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার সরাসরি বাজেট সহায়তা হিসেবে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সফরের দ্বিতীয় দিন, ২৭ অক্টোবর, প্রধানমন্ত্রী জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হবেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টোকিও এই সফরের মাধ্যমে মুক্ত ভারত‑প্রশান্ত মহাসাগরীয় (এফওআইপি) রূপকল্প বাস্তবায়নে জোর দেবে এবং মহেশখালী‑মাতাবাড়ি সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন ও বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রকল্প ‘বিগ‑বি’র আওতায় আঞ্চলিক সংযুক্তি বাড়াতে বাংলাদেশকে মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখছে। এছাড়া, জাপান চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলাকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে রেখেছে।

টোকিওর পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে আলাদাভাবে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৬.৩৬ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে জাপান ‘অফিসিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স’ (ওএসএ) কর্মসূচির অধীনে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জন্য ৩৫ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশেষ নৌযান হস্তান্তর করতে পারে।

ঢাকায় সিরডাপ মিলনায়তনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে বলেন, অবকাঠামো, জ্বালানি, কৃষি, তৈরি পোশাক, বেসামরিক বিমান চলাচল, ব্যবসা‑বান্ধব পরিবেশ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে একাধিক সমঝোতা স্মারক সই হবে, যা নতুন জাপানি বিনিয়োগের দুয়ার খুলে দেবে।

সফরসূচি অনুযায়ী, টোকিও পৌঁছানোর প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী জাপান‑বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ, জাইকা এবং ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন। দ্বিতীয় দিন শীর্ষ বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজের পর তিনি জেরা এলএনজি টার্মিনাল ও নিপ্পন এক্সপ্রেসের হাব পরিদর্শন করবেন। তৃতীয় দিন জেবিআইসি, জেট্রো এবং তৈরি পোশাক জায়ান্ট ইউনিক্লো ও সুমিতোমো কর্পোরেশনের সঙ্গে বৈঠক এবং বাংলাদেশ‑জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। সফরের শেষ দিন টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের মাধ্যমে সফর শেষ হবে।