একাত্তর টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাটোর জেলা পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের অফিস স্টাফ হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আবু হুরায়রা খালেদ রাশেদ (৩০) কে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তার রাশেদ নাটোরের সিংড়া উপজেলার বালুয়া-বাসুয়া গ্রামের জিয়াদুল ইসলামের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে হোয়াটসঅ্যাপ, বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করত।

নিজেকে অতিরিক্ত প্রেস সচিবের স্টাফ বলে ভুয়া আশ্বাস দিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা বিএনপির দলীয় পদে পদায়ন নিশ্চিত করার লোভ দেখিয়ে সে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করত। গত ১৯ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে ভুক্তভোগী কাদের গনি চৌধুরীকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে বিএনপির দলীয় পদে পদায়নের অনলাইন ফরম পূরণের নামে টাকা হাতিয়ে নেয়। একই পদ্ধতিতে ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিনের কাছেও অর্থ দাবি করেছিল।

বিষয়টি অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের নজরে পড়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, রাশেদ ২০১৬-২০১৯ সালে সিংড়া পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল এবং ২০১৯-২০২২ সালে বাংলাদেশ বেতার রংপুরে রেডিও টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত থাকার সময় একই ধরনের প্রতারণার মামলায় সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা ও প্রতারণার একাধিক মামলা রয়েছে।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নাটোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে সিংড়া উপজেলার তার নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে। আসামির বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন ও প্রতারণার অভিযোগে নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এই প্রতারক চক্রের অন্যান্য পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।