ধাক্কা ট্রিবিউন অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান রবিবার টোকিওতে চারদিনের সরকারি সফর শুরু করেন। সফরের মূল লক্ষ্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টিকরণ এবং দক্ষ কর্মীকে জাপানে প্রেরণ করা।
বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্যাকেজ
বাংলাদেশ ২০২৬‑২০৩১ সময়কালের জন্য ১২টি অগ্রাধিকার সেক্টরে মোট $13.8 বিলিয়ন মূল্যের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্যাকেজ প্রস্তুত করেছে। এতে পরিবহন, শিল্পায়ন, উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি, ফার্মাসিউটিক্যাল, তথ্যপ্রযুক্তি, পর্যটন এবং এসএমই সেক্টর অন্তর্ভুক্ত।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, জাপানের বেসরকারি খাত আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় $6.35 বিলিয়ন) বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের সূচি
সফরে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাে তাকাইচি সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক শীর্ষসভা করবেন, ব্যবসা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং অটোমোবাইল ও জ্বালানি সুবিধা পরিদর্শন করবেন। সফরের শেষ দিনে তিনি টয়োটা মোটর কর্পোরেশনের নাগোয়ায় মোটোমাচি প্ল্যান্টে ভ্রমণ করবেন এবং টয়োটা তসুশো কর্পোরেশনের সিইও তোশিমিতসু ইমাইয়ের আয়োজনে লাঞ্চে অংশ নেবেন।
প্রধান্যপূর্ণ বিনিয়োগের ক্ষেত্র
দূতাবাস সূত্রে জানানো হয়েছে, টয়োটা বাংলাদেশে প্রায় $500 মিলিয়ন মূল্যের একটি গাড়ি সমাবেশ কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে, যা স্থানীয় গাড়ি উপাদান ও ক্যাবল উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর জন্য সুযোগ সৃষ্টি করবে। এছাড়া জাপানি জেরার (JERA) কোম্পানি মহেশখালি‑মাটারবাড়ি অঞ্চলে এলএনজি টার্মিনাল ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো বিকাশের প্রস্তাব দিয়েছে।
অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা
প্যাকেজে $3.45 বিলিয়ন পরিবহন ও নগর সংযোগের জন্য, $3.14 বিলিয়ন সমন্বিত শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক হাবের জন্য, এবং $1.57 বিলিয়ন উৎপাদন ও ইলেকট্রনিক্সের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া $1.26 বিলিয়ন জ্বালানি ও সবুজ রূপান্তর উদ্যোগ, $940 মিলিয়ন জলবায়ু-প্রতিরোধী অবকাঠামো এবং অবশিষ্ট $3.45 বিলিয়ন কৃষি, ফার্মাসিউটিক্যাল, তথ্যপ্রযুক্তি, নীল অর্থনীতি, পর্যটন ও এসএমই সেক্টরের জন্য নির্ধারিত।
ধাক্কা ট্রিবিউন জানায়, জাপান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে মেট্রো রেল, শহরায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং মাটারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরসহ অবকাঠামো প্রকল্পে সহায়তা করেছে। বর্তমান আলোচনায় মেট্রো রেল নির্মাণ খরচ কমানো, জাপানি ঋণের সুদের হার হ্রাস এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুততর করা অন্তর্ভুক্ত।
শ্রমিক ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা
২০১৯ সালে বাংলাদেশ ও জাপান নির্দিষ্ট দক্ষ কর্মী (SSW) প্রোগ্রামের অধীনে ১৪টি সেক্টরে কর্মী নিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষর করে। ২০২৫ সালের মে মাসে দুই দেশ ১০০,০০০ কর্মী নিয়োগের চুক্তি করে এবং ১৭ অক্টোবর আরেকটি পাঁচ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে।
সফরে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোও আলোচনার অংশ হবে, এবং শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য আলাদা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে।
ধাক্কা ট্রিবিউন উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশ থেকে জাপানে রপ্তানি ২০১৫‑১৬ আর্থিক বছরে $১ বিলিয়ন অতিক্রম করে ২০২১‑২২ সালে $২.৮ বিলিয়ন পৌঁছেছে, এবং জাপান বর্তমানে বাংলাদেশের নয়ম বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য।






