আসন্ন পবিত্র রমজানকে লক্ষ্য করে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। মোট ভোজ্যতেল আমদানি ৮.২৩ লাখ মেট্রিক টন, যা গত বছরের ৭.০৫ লাখ টনের তুলনায় ১.১৮ লাখ টন বেশি। ভোজ্যতেলের এলসি (ঋণপত্র) খোলার পরিমাণ ৮.০৫ লাখ মেট্রিক টন, যা পূর্ববছরের একই সময়ের তুলনায় ১.৩১ লাখ টন বেশি। সয়াবিন বীজের আমদানি ৫.০১ লাখ মেট্রিক টন, যা ১.১৩ লাখ টন বৃদ্ধি পেয়েছে।
চিনির আমদানি ৬.৮৭ লাখ মেট্রিক টন, যা ১.৫৩ লাখ টন বৃদ্ধি পেয়েছে; চিনির এলসি ৮.১০ লাখ মেট্রিক টন। ছোলার আমদানি ০.৮২ লাখ মেট্রিক টন, যা পূর্ববছরের ০.১২ লাখ টনের তুলনায় ০.৭০ লাখ টন বৃদ্ধি। ছোলার এলসি ১.৩৮ লাখ মেট্রিক টন। মসুর ডালের আমদানি ১.২২ লাখ মেট্রিক টন, যা ০.৬৪ লাখ টন বৃদ্ধি পেয়েছে; মসুর ডালের এলসি ১.১৪ লাখ মেট্রিক টন। খেজুরের আমদানি ০.১১ লাখ মেট্রিক টন, যা পূর্ববছরের ০.০৪ লাখ টনের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় বাজারে ডিমের দাম এক মাসে ৭.৬২% কমে প্রতি হালি ৪৭ থেকে ৫০ টাকা হয়েছে। একই সময়ে ব্রয়লার মুরগির দাম ২.৬৩% কমে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা। বড় দানার মসুর ডালের দাম এক মাসে ২.৫৬% এবং গত বছরের তুলনায় ৭.৩২% কমে বর্তমানে ৯০ থেকে ১০০ টাকা প্রতি কেজি, আর মাঝারি দানার দামও গত বছরের তুলনায় ৯.৬২% কমেছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ২০৪ টাকা ও পাঁচ লিটারের বোতল ১,০০০ টাকা স্থিতিশীল রয়েছে; চিনির দাম প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১১৫ টাকার মধ্যে অপরিবর্তিত। সাধারণ মানের খেজুরের দাম ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা প্রতি কেজি, যা এক মাস ধরে স্থিতিশীল।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভায় পোল্ট্রি খাতের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন যে ডিম ও মুরগির উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে এবং রোগবালাইয়ের উল্লেখযোগ্য প্রভাব নেই, ফলে রমজানে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে তারা উল্লেখ করেছেন যে রমজানে নাশতার পরিবর্তনের কারণে ডিমের চাহিদা কিছুটা কমতে পারে, তবে ঈদ পর মুরগির চাহিদা বাড়তে পারে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদি শুল্ক কাঠামোকে সহজ, স্বচ্ছ ও যৌক্তিক করার ওপর জোর দিয়ে বলেছেন যে মিশর, সৌদি আরব, ইরাক ও আলজেরিয়া সহ প্রায় এক ডজন দেশ থেকে বিভিন্ন মানের খেজুর আমদানি করা হয়; শুল্ক নির্ধারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দায়িত্ব থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয় প্রয়োজন। তিনি খেজুরের প্রচলিত শুল্ক সুবিধা দ্রুত কার্যকর করার এবং গুণগত মানের ভিত্তিতে কর নির্ধারণের প্রস্তাবও তুলে ধরেছেন।
এই তথ্যগুলো ঢাকা পোস্টের রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।






