বাংলা ট্রিবিউন অনুযায়ী, ঢাকা শহরের মেরাদিয়া বাজারে শুক্রবার সকাল ৮:৩০ টায় বাজার করতে আসা বাসিন্দারা দাম কমবে এমন প্রত্যাশা করলেও, রুই মাছের দাম কেজি প্রতি ৩৫০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। গরুর মাংসের দাম ৮২০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা, দেশি মুরগি ৬৬০ টাকা এবং কক (সম্ভবত হাঁস) ৩৩০ টাকা প্রতি কেজি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন তেলের বর্তমান দাম ৫ লিটারে ১,০০০ টাকা, এবং ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন যে প্রতি লিটারে অতিরিক্ত ১৪-১৫ টাকা বাড়তে পারে।
মেরাদিয়া বাজারে বিভিন্ন সবজির দামও তালিকাভুক্ত হয়েছে: বেগুনের দাম প্রকারভেদে ১০০, ১৪০ ও ১৮০ টাকা প্রতি কেজি, পটল ৮০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, পেপে ৪০ টাকা, সিম (শিম) ১৬০ টাকা, টমেটো ১৬০ টাকা এবং শসা ১২০ টাকা প্রতি কেজি। ফুলকপি প্রতি পিস ৮০ টাকা, লাউ ৭০-৮০ টাকা। ভেন্ডি ও বরবটি (সম্ভবত মাছের প্রকার) যথাক্রমে ৬০ এবং ১০০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মেরাদিয়া বাজারে ময়দা, চিনি, গৃহস্থের সাবান এবং হুইল পাউডারের দামও বাড়ে দেখা গেছে; ২ কেজি ময়দার দাম ১৪০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা হয়েছে, চিনি ১১০ টাকা, আটা প্যাকেট ৬৫ টাকা থেকে ৭০ টাকা, হুইল পাউডার ১৪৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা প্রতি কেজি। গৃহস্থের সব ধরনের সাবানের দাম ৫-১০ টাকা বেড়েছে।
থাকুরগাঁ বাজারের সমান পরিস্থিতি
ঢাকা পোস্টের রিপোর্টে একই সপ্তাহে থাকুরগাঁ শহরের বিভিন্ন বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার সমান ধারা দেখা গেছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত তিন মাসে চালের দাম কেজি প্রতি ৫-১০ টাকা বাড়েছে এবং সয়াবিন তেলের দাম ৫ লিটারে ১,০০০ টাকা। থাকুরগাঁয়ের বাজারে গৃহস্থের ব্যয় বাড়ার ফলে দিবিরুল ইসলাম ও দুলাল হক মত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি।
ঢাকা পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, দিবিরুল ইসলাম (দিবি) দিনে ৪০০-৫০০ টাকা উপার্জন করে, তবে পরিবারের ছয় সদস্যের জন্য এই আয় যথেষ্ট নয়। অন্যদিকে, দুলাল হক (দুলাল) একটি বেসরকারি এনজিওতে কাজ করেন, তবে বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ, পানি ও খাবারের খরচের কারণে বেতনের টাকা দ্রুত শেষ হয়ে যায়। উভয়ই বাজারে চাল, ডাল, তেল ও সবজির উচ্চমূল্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
উভয় সূত্রই উল্লেখ করেছে যে শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে, তবে দাম কমার কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। ফলে গৃহস্থের ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম স্থবির না থেকে বাড়ছে।
বাংলা ট্রিবিউনের রসেল খান (রসেল জেনারেল স্টোরের মালিক) এবং মনসুর আহমেদ (বাজারে আসা ক্রেতা) উভয়ই বলেছেন যে, বর্তমান বাজারে কোনো পণ্যই সস্তা নয়; রুই মাছের দাম ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা প্রতি কেজি, এবং তিলাপিয়া মাছের দাম ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।






